খুনিদের দেখলে ‘চিনবেন’ অভিজিতের স্ত্রী

Avijit
সমাজের কথা ডেস্ক॥ খুনিদের দেখলে চিনতে পারবেন বলে শ্বশুরকে জানিয়েছেন লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বই মেলার বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিতের সঙ্গে থাকা বন্যাও দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন।
চাপাতির আঘাতে একটি আঙুল হারানো বন্যা চিকিৎসার জন্য ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তার সঙ্গে সর্বশেষ কথার ভিত্তিতে অধ্যাপক অজয় রায় জানিয়েছেন, খুনিদের দেখলে চিনতে পারবেন তার পুত্রবধূ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত রাতে বন্যার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার আগে পুলিশের কাছে সে স্টেটমেন্ট দিয়েছে। আবার যদি স্টেটমেন্ট দেওয়ার দরকার হয়, ও দেবে।”
খুনিদের বন্যা সনাক্ত করতে পেরেছেন কি না- জানতে চাইলে অজয় রায় বলেন, “ও (বন্যা) বলে যে, সে দেখলে বুঝতে পারবে।”
অভিজিতের খুনিদের এখনও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের ধারণা, অভিজিতের লেখালেখিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
উগ্রপন্থিদের হুমকির মুখে থাকা অভিজিৎ একুশের বইমেলায় তার দুটি বই প্রকাশের আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছিলেন। স্বামীর মতো বন্যাও ব্লগার, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর টিএসসি মোড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ফুটপাতে হামলার মুখে পড়েন এই দম্পতি। চাপাতি দিয়ে তাদের কুপিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
বন্যা তার শ্বশুরকে বলেছেন, হামলাকারীরা অন্তত পাঁচজন ছিল, তাদের বয়স ছিল ২৫/২৬ বছর। তাদের প্রত্যেকের পরনে জিন্সের প্যান্ট ও গেঞ্জি ছিল। তাদের মুখে কোন দাড়ি ছিল না।

অভিজিৎ হত্যাকান্ডে তার বাবা অজয় রায় মামলা করেছেন। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তার তদন্ত করছে।

তারা এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রচারক ফারাবী শফিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছেন, যিনি ফেইসবুকে অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ড সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শেয়ার