মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ছয়লাখ টাকার ৬২টি গাছ বিক্রি ৬২ হাজারে!

moni
মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর॥ অবকাঠামো উন্নয়ন করতে গিয়ে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের ছোট বড় ৪৪ টি গাছ মাত্র ৬২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে বিক্রির তালিকায় না থাকলেও ঠিকাদার লাখ টাকা মূল্যের একটি জামগাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধা দেন।
জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করে। আর এ ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে রয়েছে অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ থেকে ওই স্থানের প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি, কৃঞ্চচুড়া, কাঁঠাল, জামরুল, আম, আমড়া, নারকেল, সুপারীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৪৪টি গাছ বিক্রির জন্য টেন্ডারের সিদ্ধান্ত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ নজরুল ইসলামকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই সম্প্রতি টেন্ডার আহবান করেন। অভিযোগ রয়েছে ৪৪ টি গাছের বাজার মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা হলেও টেন্ডার কমিটির সদস্য উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল বাশার মূল্য নির্ধারণ করেন মাত্র ৬২ হাজার টাকা। তার ওপর নামকাওয়াস্তে হাতেগোনা কয়েকজন ঠিকাদার এ টেন্ডারে অংশ নেন এবং কাজটি পান মেসার্স লুনা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ পাবার পর ঠিকাদারের পক্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নবিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে পরিষদ চত্বর থেকে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। আর এ টেন্ডারের কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা উপ সহকারি প্রকৌশলী মাসুদ রানা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে মাসুদ রানা গাছ কাটার সময় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল বাশার এবং উপ সহকারি প্রকৌশলী সরদার মাসুদুর রহমান ঠিকাদারের সাথে জোগসাজসে ৪৪টি গাছের বাজার মূল্যের পরিবর্তে কম মূল্য নির্ধারণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিক্রি করা তালিকায় লাখ টাকা মূল্যের বড় একটি জামগাছ না থাকলেও শনিবার সেই গাছটিও কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের বাঁধা দেন। উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, গাছের মূল্য নির্ধারণে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি তবে টেন্ডারের কাজ দেখভালের জন্য দায়িত্বে রয়েছেন উপ সহকারি প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানের। এ প্রসঙ্গে মাসুদুর রহমান টেন্ডার কাজের দেখভাল দায়িত্বের কথা অস্বীকার করে বলেন, ৪৪টি নয়, ৬২ টি গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছ কাটার ব্যাপারে কোনপ্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়নি। তালিকায় না থাকলেও বড় একটি জামগাছ কেটে নেওয়ার সময় বাঁধা দেয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ নজরুল ইসলাম বলেন, টেন্ডারে যদি কোনপ্রকার অনিয়ম দুর্নীতি করা হয় তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার