ম্যাক্সওয়েলের শতকে অস্ট্রেলিয়ার জয়

as
সমাজের কথা ডেস্ক॥ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের প্রথম শতকে বিশাল সংগ্রহ গড়ে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কুমার সাঙ্গাকারার শতকে লড়াইয়ে করলেও শেষ রক্ষা হয়নি শ্রীলঙ্কার। এক সময় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও ৬৪ রানে হেরেছে তারা।
তৃতীয় এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। টানা পাঁচ ম্যাচ জেতা নিউ জিল্যান্ড সবার আগে শেষ আট নিশ্চিত করে।

ম্যাক্সওয়েলের প্রথম শতকে বিশাল সংগ্রহ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৯ উইকেটে ৩৭৬ রানের স্কোর দাঁড় করানোয় অবদান কম নয় অর্ধশতক পাওয়া তিন ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ, মাইকেল ক্লার্ক ও শেন ওয়াটসনের।

সাঙ্গাকারার শতকে ভিত পাওয়া শ্রীলঙ্কা এগুচ্ছিল অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমালের ব্যাটে। কিন্তু চোট পেয়ে চান্দিমালের মাঠ ছাড়ার পর দিক হারানো দলটি ৪৬.২ ওভারে ৩১২ রানে অলআউট হয়ে যায়।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই লাহিরু থিরিমান্নের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে তিলকারতেœ দিলশান ও সাঙ্গাকারার ১১৯ বলে ১৩০ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয় তারা।

জেমস ফকনারের বলে দিলশান এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ভাঙে শতরানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে ৫৩ রানের আরেকটি জুটি উপহার দেন সাঙ্গাকারা।

রান আউট হয়ে জয়াবর্ধনের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি সাঙ্গাকারাও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিনটি শতকে পৌঁছানোর পর ফকনারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।

২৪তম শতক করা সাঙ্গাকারার (১০৪) ১০৭ বলের ইনিংসটি গড়া ১১টি চারে।

নেমেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ৪৪ বলে ৮০ রানের জুটিতে দ্রুত রান তুলতে থাকে শ্রীলঙ্কা। দলকে জয়ের পথেই রেখেছিলেন এই দুই জনে।

এক সময়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৮১ রান। চান্দিমাল রিটায়ার্ড আউট হওয়ার পর ৩১ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে তারা।

শ্রীলঙ্কার ধসের শুরু ম্যাথিউসের বিদায় দিয়ে। এরপর থিসারা পেরেরা ও উপুল থারাঙ্গা দ্রুত ফিরে গেলে হার এড়াতে পারেনি উজ্জীবিত দলটি।

এর আগে রোববার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৪১ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো বিশ্বকাপের সহ-আয়াোজকদের কক্ষপথে ফেরান ক্লার্ক ও স্মিথ।

তৃতীয় উইকেটে ১৭৯ বলে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন ক্লার্ক-স্মিথ। বিপজ্জনক হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙেন লাসিথ মালিঙ্গা। এই পেসারের দারুণ এক বলে বোল্ড হয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

৬৮ বলে করা ক্লার্কের ৬৮ রানের ইনিংসটি সাজানো ৬টি চারে।

শতরানে জুটি ভাঙার পর বেশিক্ষণ টিকেননি স্মিথ। দিলশানের বলে থিসারার ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরে যান তিনি। স্মিথের (৭২) ৮৮ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও ১টি ছক্কায়।

মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে ক্লার্ক ও স্মিথের বিদায়ের কোনো প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে পড়তে দেননি ম্যাক্সওয়েল ও ওয়াটসন। পাল্টা আক্রমণে দ্রুত রান তুলতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

৮২ বলে ১৬০ রানের জুটি গড়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান ম্যাক্সওয়েল ও ওয়াটসন। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম শতকে পৌঁছে ম্যাক্সওয়েলের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি বিস্ফোরক এই জুটি।

মাত্র ১ বলের জন্য কেভিন ও’ব্রায়ানের বিশ্বকাপে দ্রুততম শতকের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। তবে ৫১ বলে শতক করে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুততম শতকের রেকর্ড ঠিকই নিজের করে নেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ৫৭ শতকে পৌঁছে রেকর্ডটি করেছিলেন জেমস ফকনার।

ম্যাচ সেরা ম্যাক্সওয়েলের ৫৩ বলের ইনিংসটি ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা সমৃদ্ধ। তার বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারালেও ওয়াটসন ও ব্র্যাড হ্যাডিন দলকে পৌনে চারশ’ রানে নিয়ে যান।

থিসারার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়া ওয়াটসন করেন ৬৭ রান। দলে ফেরা এই অলরাউন্ডারের ৪১ বলের ইনিংসটিতে রয়েছে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা।

শেয়ার