ইংল্যান্ডের বাঁচা-মরার ম্যাচে ‘ফেভারিট’ বাংলাদেশ

Bangladesh
সমাজের কথা ডেস্ক॥ হারলেই বাদ- বিশ্ব আসরে এমন খেলার অভিজ্ঞতা কম নয় বাংলাদেশের। বরাবরই বড় দলগুলোর বিপক্ষে এই ধরণের ম্যাচ খেলছিল তারা। এবার হতে যাচ্ছে উল্টো অভিজ্ঞতা। ইংল্যান্ডের বাঁচা-মরার ম্যাচে প্রতিপক্ষ মাশরাফি বিন মুর্তজারা।
সোমবার অ্যাডিলেইড ওভালে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার-ফাইনালের লড়াইয়ে থাকা দুই দল।
বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ খুব সহজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেই প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে যাবে তারা। শেষ আটে যেতে নিজেদের দুই ম্যাচে জিতেও বাংলাদেশের দুই ম্যাচেই হারের অপেক্ষায় থাকতে হবে ইংল্যান্ডের।
তাই ভীষণ চাপে আছে বিশ্বকাপে চার ম্যাচের মাত্র একটিতে জেতা ইংল্যান্ড। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ যতটা চাপে ছিল, ওয়েন মর্গ্যানের দল তার চেয়ে বেশি চাপেই আছে। বাংলাদেশের শুধু একটি ম্যাচে হারের ভয় ছিল, সেখানে ইংল্যান্ড আছে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কায়।
ইংল্যান্ডের চাপ সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, “আফগানিস্তান ম্যাচে দল, এমনকি পুরো দেশ চাপে ছিল। সেই চাপ কেটে আমরা বেরিয়ে এসেছি।”

শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে এলোমেলো হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার ম্যাচ ছিল স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সেই কাজটি ভালোভাবেই সেরে রেখেছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা।

ছন্দে ফিরেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তামিম। তার রানে ফেরা অনেক বড় স্বস্তি বাংলাদেশের জন্য। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হক চোট পাওয়ায় তার বদলে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ইমরুল কায়েস। সৌম্য সরকারের জায়গায় দলে আসতে পারেন তিনি।

গত বিশ্বকাপে শেষবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের সেই ম্যাচে দারুণ ভূমিকা রেখে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বরাবরই জ্বলে উঠেন তিনি।

স্পিনের বিপক্ষে সবসময়ই সংগ্রাম করতে হয় ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের। তাই এই ম্যাচে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে যুক্ত হতে পারেন আরাফাত সানি। তাই আট ব্যাটসম্যান খেলানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসে সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ।

অ্যাডিলেইড ওভালে অনেক রান আশা করছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ব্যাটসম্যানরা রানে থাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনশ’ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তিন নম্বরে নেমে রান পেয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম রানেই আছেন। সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনের শেষ দিকে ঝড় তোলার সামর্থ্য রয়েছে।

বোলিং নিয়ে একটু দুর্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। টানা দুই ম্যাচে তিনশ’ রান করেছে প্রতিপক্ষ। মাশরাফি জানান, দুই ম্যাচে ছোটখাটো কিছু ভুল করেছেন বোলাররা। তার বিশ্বাস, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ছন্দে ফিরবেন বোলাররা।

বোলিং নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ইংল্যান্ডের দুর্ভাবনা কম নয়। শ্রীলঙ্কাকে ৩০৯ রানের লক্ষ্য দিয়ে ৯ উইকেটে হেরেছিল তারা। জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রডরা হঠাৎ করেই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। চার ম্যাচে মাত্র দুটি করে উইকেট পেয়েছেন এই দুই পেসার।

সেরা ছন্দে নেই অধিনায়ক মর্গ্যান। গ্যারি ব্যালান্স চার ম্যাচে রান পাননি, সব মিলিয়ে করেছেন মাত্র ৩৬ রান। দলে পরিবর্তন আনার কথা উঠেছে জোরেসোরেই।
চাপে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের শরীরী ভাষায়ও সেই ছাপ স্পষ্ট। এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া বাংলাদেশ। কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের চাপে ফেলতে রাজি নয় তারা। বরং নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রোমাঞ্চিত তারা।

এক সময়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারলেও এখন সমান তালেই লড়ে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচেই দুটিতেই জয় থেকে আশাবাদী হতেই পারেন মাশরাফিরা।

শেয়ার