আফগান বাধা অনায়াসে পার নিউ জিল্যান্ডের

nz
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ড্যানিয়েল ভেটরির দারুণ বোলিংয়ে সহজ জয় পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড। ছোট লক্ষ্য তাড়া করে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।

ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়ার পর আফগানিস্তানকে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় পাওয়া নিউ জিল্যান্ড পরের ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

রোববার ন্যাপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে এক সময় ভীষণ বিপদে পড়ে আফগানিস্তান। নাজিবুল্লাহ জাদরান ও সামিউল্লাহ সেনওয়ারি দুই মেজাজের অর্ধশতকে প্রতিরোধ গড়া দলটি ৪৭.৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৮৬ রান করে।

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পাওয়া নিউ জিল্যান্ডের আর পেছনে তাকাতে হয়নি। মার্টিন গাপটিলের অর্ধশতকে ৩৬ ওভার ১ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৯ বলে ৪২ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন অধিনায়ক ম্যাককালাম। তার বিদায়ের পর কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৫৮ রানের আরেকটি জুটি উপহার দেন গাপটিল।

অর্ধশতকে পৌঁছে রান আউট হয়ে ফিরে যান গাপটিল। ৭৬ বলে খেলা তার ৫৭ রানের ইনিংসটি ৭টি চারে সাজানো।

এরপর রান আউট হয়ে ফিরে যান গ্র্যান্ট এলিয়টও। তবে কোরি অ্যান্ডারসনকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই সারেন রস টেইলর।

এর আগে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। ম্যাচ সেরা ভেটরির দারুণ বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে আইসিসির সহযোগী দেশটি।

তৃতীয় ওভারে নিজের প্রথম বলেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান উসমান গনিকে বোল্ড করেন ভেটরি। উইকেটে থিতু হওয়া নওরোজ মঙ্গলকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন তিনি।

মঙ্গল অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার ভেটরির ৩০০তম শিকার। দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে তিনশ’ উইকেট নেন তিনি। ভেটরি টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ধরনের ক্রিকেটেই তিনশ’ করে উইকেট নেয়া নবম বোলার।

পরপর দুই বলে মোহাম্মদ নবি ও আফসার জাজাইকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান ভেটরি। ১৮ রানে চার উইকেট নেয়া এই স্পিনারের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেয়া নাজিবুল্লাহ পাল্টা আক্রমণে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন।

৫৯ রানেই ছয় উইকেট হারিয়ে একশ’ রানের নিচেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে দলকে দুইশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব সামিউল্লাহ ও নাজিবুল্লাহর। সপ্তম উইকেটে ৮৬ রানের চমৎকার জুটি গড়েন এই দুই জনে।

সামিউল্লাহ দেখেশুনে খেললেও দ্রুত রান তুলতে থাকেন নাজিবুল্লাহ। তিনি ৫২ আর সামিউল্লাহ ১০৫ বলে অর্ধশতকে পৌঁছান।

নাজিবুল্লাহকে ভেটরির ক্যাচে পরিণত করে ১৮.৪ বল স্থায়ী সপ্তম উইকেট জুটি ভাঙেন অ্যাডম মিল্ন। ৫৬ বলে খেলা নাজিবুল্লাহর ৫৬ রানের ইনিংসটি ৮টি চার ও ২টি ছক্কা সমৃদ্ধ।

এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি সামিউল্লাহও। কোরি অ্যান্ডারসনের বলে রস টেইলরের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৫৪ রান করেন তিনি। তার ১১০ বলের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও ১টি ছক্কায়।

শেয়ার