যশোর কালেক্টরেট মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড॥ ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি

agun copy
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শুক্রবার মধ্যরাতে যশোরের বৃহৎ তৈরি পোশাকের বাজার কালেক্টরেট মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৯টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে মার্কেটের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকার পরেও একটি গলির ১৯টি দোকান একেবারে পুড়ে যাওয়ায় তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
কালেক্টরেট মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে কালেক্টরেট মার্কেটে আগুন ধরার খবর পান। মার্কেটের ২ নম্বর গলির চৈতি গার্মেন্টস থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় দু’ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু এর আগেই মার্কেটের ১৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভস্মীভূত ১৯টি দোকানের বাইরে ৮/১০ টি দোকান আংশিক পুড়ে ও আগুন নেভানোর পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে শুক্রবারের ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইসমাইল হোসেন আরো জানান, নৈশ প্রহরী দিলীপ ও আতিয়ারের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তিনি মার্কেটে ছুটে আসেন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সিটি ফ্যাশনের চারটি দোকান, নেহা এক্সপোর্ট, রোজি গার্মেন্টস, মারুফ গার্মেন্টস ও ডরেমন’র দুইটি করে এবং ফেড গ্যালারি, আবির ফ্যাশন, চৈতি ফ্যাশন, শাহী ফ্যাশন, মনির গার্মেন্টস, টাচ ওয়ান ও গোধূলী ফ্যাশনের ১টি করে দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কালেক্টরেট মার্কেটের নৈশপ্রহরী দিলীপ কুমার জানান, তারা প্রথমে চৈতি ফ্যাশনে আগুন দেখতে পান। আগুন দেখে তারা মার্কেটের ব্যবসায়ীদের এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু এর মধ্যেই মার্কেটের মাঝের গলির সব দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়েই তিনি মার্কেটে ছুটে আসেন। আগুনে দোকানের পোষাক, আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শহরের পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা সুমন কবির জানান, মধ্যরাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে তারা মার্কেটের দিকে ছুটে আসেন। প্রথমে স্থানীয়দের সাথে মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে প্রায় দু’ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খন্দকার সানাউল্লাহ জানান, তারা রাত পৌনে ১টার দিকে মার্কেটে আগুন ধরার খবর পান। খবর পাওয়ার সাথে সাথে তাদের দু’টি গাড়ি ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে ঝিকরগাছা ও মণিরামপুর থেকে ফায়ার সার্ভিস টিম এসে যোগ দেয়। সবমিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ফায়ার সার্ভিস এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিরূপণ করতে পারেনি। আর এই অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন।

শেয়ার