অস্ট্রেলিয়ার সামনে ঘুরে দাঁড়ানো শ্রীলঙ্কা

PRECIEW

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের শ্রীলঙ্কা আর এখনকার শ্রীলঙ্কায় বিস্তর পার্থক্য। নিউ জিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে শুরু করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার দাবি জোরালো করছে দিন দিন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ব্যাটে-বলে সমান তালে এগোতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার লড়াইটি বেশ রোমাঞ্চকর হবে বলেই মনে করছেন বিশ্বজোড়া ক্রিকেট অনুসারীরা।
রোববার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায়।

এই ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলাররা দারুণ ফর্মে আছেন। তাদের ব্যাটসম্যানরা রয়েছেন বিধ্বংসী রূপে। মাঠের লড়াইয়ে নিউ জিল্যান্ডকে তারা হারাতে পারেনি, তবে অন্তত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবেই করতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।

বিষয়টি শ্রীলঙ্কার জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে, তবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই নিজেদের ফিরে পাওয়া দলটির আত্মবিশ্বাস এই মুহূর্তে চূড়ায়ই রয়েছে। টানা তিনটি জয় পেয়েছে তারা। গত ১০ দিনে চোটের কাছে যে কয়জন খেলোয়াড় হারিয়েছে, সেই কয়টি উইকেট তারা খোয়ায়নি।

বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ দুটি ম্যাচ জিতে আগের চেয়ে আরও প্রত্যয়ী শ্রীলঙ্কা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দল হিসেবে খুব জমাট। ধারাবাহিক পারফর্মও করে যাচ্ছে তারা। মূল খেলোয়াড়রা ঠিকঠাকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে চার উইকেট নেন মিচেল জনসন। মিচেল স্ট্যার্ক নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচটি প্রায় জিতিয়েই ফেলছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নার আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আগের ম্যাচেই তাদের ব্যাটের ঝলক দেখিয়েছেন। স্টিভেন স্মিথ আর মাইকেল ক্লার্কের বিশ্বমানের ব্যাটিং এখনও সেভাবে প্রয়োজনই পড়েনি অস্ট্রেলিয়ার।

দুই দলই শেষ আটে ওঠার পথেই আছে। রোববার যে দল জিতবে, সেই দলই উঠে যাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। না জিতলেও সামনে কঠিন কোনো বাধা নেই। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলবে। সেই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেই উঠে যাবে শেষ আটে।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য এই ম্যাচটি জিততে একটু বেশিই মরিয়া থাকবে। কারণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারলে সেমি-ফাইনালে উঠলে তাদের হয়ত খেলতে হবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং সেই ম্যাচটি হবে অকল্যান্ডে। আর এটা না হলে সিডনিতে ঘরের মাঠেই সেমি-ফাইনাল খেলতে পারবে তারা।

দুই অধিনায়ক ক্লার্ক বা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের কেউ এখনও শেষ আটের প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভাবার কথা বলেন। তবে এটা সত্য, দুই দলই শেষ আটে ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে এড়াতে চাইবে।

শেষ আটের হিসাবে এগিয়ে থাকার লড়াইয়ে নামার আগে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিন্তু একইরকম। সবশেষ ৫টি ম্যাচের চারটিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, হেরেছে একটিতে। শ্রীলঙ্কাও তাই-৫ ম্যাচে চারটি জয়, একটি হার।

এই ম্যাচের আগে লাহিরু থিরিমান্নে ফর্মে ফেরায় শ্রীলঙ্কার টপঅর্ডার ব্যাটিং আরও জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় আছে। নিউ জিল্যান্ড সফরে নিজেকে হারিয়ে খুঁজলেও বিশ্বকাপের চার ম্যাচে দুটি ফিফটি করেন তিনি। এক ম্যাচে আবার করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৯ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও শ্রীলঙ্কা থিরিমান্নের এই ফর্মটাই দেখতে চাইবে।

এদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অসাধারণ ব্যাট করেন অ্যারন ফিঞ্চ। তবে সবশেষ দুই ম্যাচের একটিতেও ১৫ রানের ওপরে করতে পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়া রোববার আবার ফিঞ্চকে তার সেরা রূপে দেখার অপেক্ষায় আছে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বিশ্বকাপে আর তাদের বিপক্ষে জেতেনি শ্রীলঙ্কা। পরের পাঁচটি ম্যাচের চারটিতেই জেতে অস্ট্রেলিয়া। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পন্ড হয়।

এসব নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না দুই অধিনায়কের একজনও। এটা নতুন আরেকটা বিশ্বকাপ, নতুন আরেকটা ম্যাচ; এই ম্যাচ জয়ের জন্যই খেলবে দুই দলই।

শেয়ার