৬ বাস-ট্রাকে পেট্রোলবোমা আগুন, দগ্ধ ১৭

bus fire
সমাজের কথা ডেস্ক॥

চলমান লাগাতার অবরোধ ও হরতালে বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস-ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলা, আগুন-ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় ৬ বাস-ট্রাক ও অটোরিকশায় ছোড়া পেট্রোলবোমায় মোট ১৭ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

রাত সোয়া ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের সুলতানপুরে যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তদের পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারে। এতে ওই বাসের ১২ যাত্রী দগ্ধ হয়। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শাহ সুলতান পরিবহনের ওই বাসটি নেত্রকোণার কেন্দুয়া থেকে ৩০/৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস সিলেটের ভোলাগঞ্জে যাচ্ছিল।

, রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার নিমতলার কাঠাঁল এলাকায় আলুভর্তি একটি ট্রাকে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা।

এতে ট্রাকে আগুন ধরে চালক ও হেলপারসহ ৩ জন দগ্ধ হয়। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে হেলপারের অবস্থা গুরুতর।

নওগাঁর ধামইরহাট এলাকা থেকে আলু বোঝাই করে ট্রাকটি শিবগঞ্জ যাচ্ছিল।

চট্টগ্রামের হাঁটহাজারী উপজেলায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দুর্বৃত্তরা রাত ১০টার দিকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে চালক ও এক যাত্রী দগ্ধ হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নতুনপাড়ায় জেলা মোটরমালিক সমিতি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পরে আগুন ধরিয়ে দিতে গেলে স্থানীয়রা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

সাড়ে ১০টার দিকে শহরের বড়গোলা সড়কের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ভবনে পেট্রোলবোমা হামলা করে দুর্বৃত্তরা।
তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের মাইজদীর প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে বাস, ট্রাক, পিকআপভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ১০ যানবাহন ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা রেলস্টেশন ও পদ্মা তেলডিপোর সামনে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

রাত সাড়ে ৮টার পর মোটরসাইকেলে করে কয়েক যুবক এসে সিলেট রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে ও পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময়ে পদ্মা তেলডিপোর সামনেও আরো দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

রাত ৯টায় দাগনভূঞায় ইব্রাহিম অ্যান্ড ব্রার্দাস ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া দাগনভূঞা থানার সামনে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

১০-১৫ জন মুখোশধারীরা এসে পাম্পের ভিতরে ৮-১০টি কয়েকটি ককটেল ফাটায়। এতে পাম্পের ভিতরে তেলের ৪টি মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। পরে তারা অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করে চলে যায়।

শেয়ার