গেইল হারিকেনের সামনে উড়ন্ত ভারত

indea
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সামনে আসা সবাইকে উড়িয়ে দিয়ে একটা দল ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে একজন তার ব্যাটে ঝড় তুললে প্রতিপক্ষ উড়ে যাচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটিকে দেখছেন ভারত আর গেইলের লড়াই হিসাবে।
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থের ওয়াকা স্টেডিয়ামে ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায়।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভারতের পিঠে ফেভারিট তকমা ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই উড়তে শুরু করে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। টানা তিনটি ম্যাচ জিতে ফেভারিটদের তালিকায় নাম লিখিয়ে নেয় তারা।

দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলা ভারত বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে। এরপর শুরু থেকেই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খুব ভালোভাবে জয় পায় তারা। আর আইসিসির সহযোগী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে বড় দলের মতোই জেতে ভারত।

মানুষ দুই দলের লড়াইটিকে ভারত আর গেইলের বলে মানছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কাগজকলমে তো নয়ই, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায়ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের কাছেপিঠে নেই। বিশ্বকাপের ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজে বাজে খেললেও বিশ্ব মঞ্চে ভীষণ ধারাবাহিক ভারত।

বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচের কোনো না কোনোটিতে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের সবাই অবদান রেখেছেন। সমালোচকদের তূণ থেকে তির বেরোনো বন্ধ করে দিয়ে তিন ম্যাচেই অসাধারণ বোলিং করেন ভারতের বোলাররা। কোনো এক জাদুর ছোঁয়ায় দুই বিভাগেই একই সঙ্গে জ্বলে উঠেছে ভারত।

অন্য দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই টুর্নামেন্টে এগোচ্ছে রোলার কোস্টারের মতো। কখনো উঁচুতে উঠছে, আবার নীচে নামছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের একমাত্র অঘটন জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতলেও বড় ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারে তারা।

সব মিলিয়ে শুক্রবারের ম্যাচের আগে পরিষ্কারভাবে জ্যাসন হোল্ডারের দলের চেয়ে ভারতই এগিয়ে। ক্রিকেট পণ্ডিত থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক; বেশিরভাগ মানুষই এ বিষয়ে একমত।

তবে ক্রিকেটে শেষ বলে কিছু নেই। দুই দলের বর্তমান ফর্ম আর এগিয়ে চলার গতিতে পার্থক্য আছে ঠিক, কিন্তু সবকিছুর পরও আছে আরেকটি বিষয়-‘ক্রিস গেইল ফ্যাক্টর’, অনেকে যেটাকে বিষয়টিকে ক্যারিবীয় ঝড় বা ‘দ্য গেইল হারিকেন’ বলেন।

যে দিনটি গেইলের, সেদিন তার ঝড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে বিশ্বের যেকোনো বোলিং আক্রমণ। প্রতিপক্ষের বহু বোলারের রাতের ঘুমে আতঙ্ক হয়ে যাওয়া গেইল মুহূর্তের মধ্যে ঘুরিয়ে দিতে পারেন যেকোনো ম্যাচ।

গেইলের তাণ্ডব সবশেষ এই বিশ্বকাপেই দেখেছে বিশ্ব। জিম্বাবুয়ের বোলারদের নাকের জল আর চোখের জল এক করে দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দ্বিশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১০টি চার ও ১৬টি ছয়ে ১৪৭ বলে ২১৫ রান করেন গেইল।

বিষয় হচ্ছে গেইল আর ধারবাহিকতা যেন দুই মেরুর বিষয়। কখনোই এই শব্দটির সঙ্গে সখ্যতা হয়নি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়ালসুন্দর এই ব্যাটসম্যানের। তবে ভারতের বিপক্ষে নিজের ধারবাহিকতার প্রমাণ দেওয়ার একটি বিষয় আছে গেইলের। একই সঙ্গে দলকে নকআউট পর্বে তোলার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেওয়ার দায়িত্বের সিংহভাগ তার ওপরই বর্তায়।

ভারতের কিছু বোলারের বিরুদ্ধে অবশ্য গেইলের দুর্বলতা আছে। এদের মধ্যে দুজন হলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। উত্তর প্রদেশের পেসার ভুবনেশ্বরের ফর্ম ঠিক ভালো যাচ্ছে না। তবে নিজের ক্যারম বল দিয়ে গেইলকে ভোগানোর জন্য ঠিকই থাকছেন অফস্পিনার অশ্বিন।

বিরাট কোহলি ছাড়াও ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে যেমন দলকে টানার জন্য রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান আর সুরেশ রায়নারা আছেন; তেমনি ‘গেইল ফ্যাক্টর’ ছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় আছেন। টপঅর্ডারে ডোয়াইন স্মিথ দলটির বড় এক সম্পদ। এ ছাড়া আছেন মারলন স্যামুয়েলস ও দিনেশ রামদিন।

শেষ দিকে চাহিদা অনুযায়ী রান তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন আন্দ্রে রাসেল ও ড্যারেন স্যামি। বল হাতে জেরোম টেইলর, কেমার রোচদের কেউ একজন জ্বলে উঠলে যেকোনো দলের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিতে পারেন।

লড়াইটি তাই ভারত বনাম গেইল হোক অথবা কোহলি বনাম গেইল কিংবা অন্য কোনো দ্বৈরথ হোক; রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচের প্রতীক্ষা করতেই পারে ক্রিকেট বিশ্ব।

শেয়ার