বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জেট বিমান উড়ছে যশোর জিলা স্কুলের আকাশে

projukti
এস হাসামী সাজু॥
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় যশোর জিলা স্কুলের আকাশে একটি উড়ন্ত জেট বিমান ঘুরপাক খাচ্ছে। মাঝে মাঝে স্কুল চত্ত্বর ছাড়িয়ে বাইরেও বের হচ্ছে। এটি দেখতে আকাশপানে চেয়ে থাকতে দেখা যায় ৩৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ’র দর্শনার্থীদের। তবে এই বিমান যুদ্ধ বা যাত্রীবাহী কোন বড় বিমান না; এটি যশোর কালেক্টরেট স্কুলের ছাত্র ক্ষুদে শিক্ষার্থী সৌমদ্বীপ মজুমদারের উদ্ভাবনী আধুনিক ডিজিটাল বিমান। শিক্ষার্থীদের এ রকম নানা উদ্ভাবনী নিয়ে যশোর জিলা স্কুলে ২-৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলা।
গতকাল বিকেলে মেলা অঙ্গন ঘুরে জানা যায়, যশোর জেলার স্কুল, কলেজ ও বিজ্ঞান ক্লাব মিলে মোট ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের ১০৫টি উদ্ভাবনী আধুনিক বিভিন্ন প্রজেক্ট উপস্থাপন করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। মেলায় জুনিয়র গ্রুপ থেকে ২১টি প্রতিষ্ঠান ৭৭টি প্রজেক্ট, সিনিয়র গ্রুপ থেকে ১১টি প্রতিষ্ঠান ১৯টি এবং বিশেষ গ্রুপ (বিজ্ঞান ক্লাব) থেকে ৬টি প্রতিষ্ঠান ৯টি প্রজেক্ট দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করে।
এ সময় কথা হয় যশোর রংধনু বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্ভাবক সৈয়দ শাহ মোস্তফা হাসমীর সাথে। তিনি জানান, সময়ের সাথে সাথে যশোরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে রিক্সা, ইজিবাইক, চলতে যেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ফলে আগামী ৪/৫ বছর পর মানুষের শহরে হাটা চলা করতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হবে। এজন্য এখন থেকে যশোরে ওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি পরিকল্পিত শহর, অবকাঠামো, রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণের প্রজেক্ট উপস্থাপন করেন। যশোর সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র লিখন আহম্মেদ ও সাফায়েত ইট ভাটার ধোঁয়া (কালো কার্বন) কিভাবে বিশুদ্ধ করা যায় তা উপস্থাপন করেন।
অপরদিকে, মেলায় আগত দর্শকরা শুধু এই তিনটি প্রতিষ্ঠানেই ভিড় করেননি। তারা পুলিশ লাইন স্কুল, জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের স্কুলের প্রজেক্টগুলো দেখার জন্য ভিড় করেন। এ সময় কথা হয় যশোর জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ও মেলার সদস্য সচিব আব্বাস উদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, প্রতিবছর যশোর জিলা স্কুলে, কলেজ ও বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যরা আকর্ষণীয় প্রজেক্ট নিয়ে আসে বিজ্ঞান মেলায়। তবে এবার সময় না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুরাতন প্রজেক্ট উপস্থাপন করেছেন। নতুনের ভিতর তিনটি প্রজেক্ট পাওয়া গেছে। আগামীতে এ সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার