চাচাকে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করেন সিরাজ মাস্টার

trybu
সমাজের কথা ডেস্ক॥

রাজাকাররা তাদের হাতে থাকা ছোরা ও বেয়নেট দিয়ে আমার চাচা কাঞ্চন শেখসহ আটককৃত ১৯ জনকে নির্যাতন করে। সিরাজ মাস্টার ছোরা দিয়ে কোমরে ঘা দিলে চাচা কাঞ্চন শেখ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন সিরাজ মাস্টার বেয়নেট দিয়ে তাকে জবাই করেন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দানকালে এসব কথা বলেছেন শহীদ পরিবারের সদস্য আহমেদ আলী শেখ। তিনি সিরাজ মাস্টার, লতিফ তালুকদার ও খান আকরামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৫তম সাক্ষী।

বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দেন আহমেদ আলী শেখ। সাক্ষ্যগ্রহণে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল হক সুমন। সাক্ষ্য শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন সিরাজ মাস্টারের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সিরাজ-লতিফ-আকরামের বিরুদ্ধে ২৬তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

বর্তমানে আনুমানিক ৬৩ বছর বয়সী সাক্ষী আহমেদ আলী শেখ বাগেরহাট সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল আনুমানিক ১৯ বছর। সে সময় তিনি পাকিস্তান মুজাহিদ (আনসার) বাহিনীর সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতার পরে তিনি পূবালী ব্যাংকে চাকরি করতেন। বর্তমানে অবসরে আছেন।

সাক্ষ্যে আহমেদ আলী শেখ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৮ জুন সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা আমার চাচা কাঞ্চন শেখকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। সেদিন সিরাজ মাস্টারসহ রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা চাচা কাঞ্চন শেখসহ গ্রামের মোট ১৯ জনকে ধরে কান্দাপাড়া বাজারের দিকে নিয়ে যায়।

‘রাজাকাররা তাদের হাতে থাকা ছোরা ও বেয়নেট দিয়ে আটককৃতদের নির্যাতন করে। আসামি সিরাজ মাস্টার ছোরা দিয়ে কোমরে ঘা দিলে চাচা কাঞ্চন শেখ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন সিরাজ মাস্টার বেয়নেট দিয়ে তাকে জবাই করেন,’—সাক্ষ্যে বলেন তিনি।

সাক্ষী আহমেদ আলী বলেন, সিরাজ মাস্টারের নির্দেশে রাজাকাররা ধরে আনা অন্যদের ছোরা দিয়ে হত্যা করেন।
চাচার খোঁজ করতে এসে কান্দাপাড়া বাজারের কাছে ঝোঁপের আড়াল থেকে তিনি এ ঘটনা দেখেন বলে উল্লেখ করেন একাত্তরে শহীদ কাঞ্চন শেখের ভাতিজা আহমেদ আলী।
তিনি জানান, সেখানে (ঝোঁপে) আগে থেকেই আমার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী শেখসহ অনেকেই লুকিয়ে ঘটনাটি দেখেছেন।
সাক্ষে আহমেদ আলী শেখ বলেন, ধরে আনা ১৯ জনকে হত্যার পর সন্ধ্যার কিছু আগে বাজারের দু’টি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। পরে এসব দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় রাজাকাররা।
‘সেদিন আমার চাচা কাঞ্চন শেখের সঙ্গে আরও যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আব্দুল আলী, মকবুল আলী এবং সবুরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম’—যোগ করেন তিনি।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার পর সিরাজ-লতিফ-আকরামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও ২৪ জন সাক্ষী। তারা হচ্ছেন দিলীপ দাস, শৈলেন্দ্র নাথ দাস, শহীদজায়া কমলা রানী চক্রবর্তী, তপন কুমার দাস, শহীদপুত্র অরুণ দাস, শহীদপুত্র নন্দলাল দাস, নিমাই চন্দ্র দাস, শহীদপুত্র আনন্দ লাল দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আহমেদ, শহীদপুত্র সোবহান শেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব নকিব।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর তিন আসামির বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল হক সুমন।

শেয়ার