খালেদা নিজেই গ্রেপ্তার হতে চান: শেখ হাসিনা

PM

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আদালতে গরহাজির হয়ে খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেপ্তার হতে চাইছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেছেন, এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে তার সরকার।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
২০ দলের অবরোধে নাশকতার জন্য দায়ী করে খালেদাকে আটকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবির মধ্যে গত সপ্তাহে জিয়া ট্রাস্টের দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করে আদালত।

শুনানিতে খালেদার টানা অনুপস্থিতির কারণে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। বুধবার শুনানির নির্ধারিত দিনও তিনি আদালতে যাননি বলে ওই পরোয়ানা বহাল রেখেছে আদালত।

বিকালে সংসদ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আইনের শাসন মেনে চলব। আইনের শাসনে যা হওয়ার তাই হবে। আইন-আদালত অবমাননা করলে কোর্ট যেভাবে অর্ডার দেবে, সেভাবেই হবে।”

খালেদা জিয়া ‘নাটক’ করতে পছন্দ করেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “উনি বিদেশিদের সিমপ্যাথি চান। বিদেশি পত্রিকায় একটু পাবলিসিটি চান।

“উনি মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এখন উনি ভয় পাচ্ছেন। নিজেই অ্যারেস্ট হতে চাচ্ছেন। নিজেই নিজেকে গ্রেপ্তার করে জনরোষ থেকে বাঁচতে চান। উনি জনরোষ থেকে বাঁচতে নাজিমুদ্দিন রোডকেই (কেন্দ্রীয় কারাগার) বেছে নিয়েছেন।”

লাগাতার অবরোধ ডেকে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে অবস্থানরত খালেদার ডাকা কর্মসূচিতে সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

“উনার জন্য যদি কেউ না দাঁড়ায়, মানুষ না আসে, তাহলে আমাদের কী দোষ? উনার দলের অনেক সাবেক এমপির সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তারও এরকম কর্মকান্ড পছন্দ করছে না।”

গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নাশকতার কয়েকটি মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

খালেদাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান নেতৃত্বও দিয়েছেন।

সরকার প্রধানের কাছে প্রশ্ন রেখে বাবলু বলেন, “সকলকে রক্ষা করতে সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে? আমরা তো পারছি না। আমাদের পিঠ তো দেয়ালে ঠেকে গেছে। জঙ্গি নেত্রীর (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে কী করবেন? ওয়ারেন্ট আছে, আজকেও (বুধবার) উনি কোর্টে যাননি। এভাবে কি দেশ চলবে? দেশে কী আইনের শাসন নেই?”

উত্তরে শেখ হাসিনা নাশকতা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

“খুনির বিচার প্রচলিত আইনেই হবে,” বিএনপি চেয়ারপারসনকে ইঙ্গিত করে বলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “উনি কাউকেই ছাড়ছেন না। মানুষকে পুড়িয়ে মারা, মানুষ খুন করা- এটাই জঙ্গি নেত্রীর কাজ। উনি আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশ মানেন না। যাচ্ছেন না। তাহলে, কী ভবিষ্যতে কেউ আদালতে যাবেন না?”

নিরাপত্তাহীনতার যে বিষয়টি খালেদার আইনজীবীরা তুলে ধরছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যিনি মানুষ মারছে, পেট্রোল বোমা মারছে- কী দুর্ভাগ্য! তাকে আমার নিরাপত্তা দিতে হবে।

“উনার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ দিলে বলে, অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আবার পুলিশ সরিয়ে নিলে বলে, নিরাপত্তার অভাব।”

হরতাল-অবরোধ ডাকা হলেও সরকার তা মোকাবেলায় সফল দাবি করে সরকার প্রধান বলেন, “আমরা দক্ষতার সঙ্গে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।”

শেয়ার