কিবরিয়াসহ আটজন পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

Padak
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ আটজন বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পাচ্ছেন এ বছর।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বুধবার এ বছরের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম চূড়ান্ত করে।
১৯৭১ সালে ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া এ বছর মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একমাত্র জীবিত সদস্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদও এবার স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন। ন্যাপ চেয়ারম্যান মোজাফফর সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছিলেন বিশেষ গেরিলা বাহিনী।
বৃহত্তর সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় প্রয়াত কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী এবার স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন। সাবেক এই সাংসদ নিজে সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন।
১৯৭১ সালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে থেকেও পাকিস্তানি বাহিনীর বদলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন মামুন মাহমুদ। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন তিনি। তাকেও এবার স্বাধীনতা পদক দিচ্ছে সরকার।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য এ পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক আসিনুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই ইমেরিটাস অধ্যাপক একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন।
দেশের সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা আব্দুর রাজ্জাক, এদেশের মানুষের কাছে যিনি ‘নায়ক রাজ রাজ্জাক’।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিউটের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন মন্ডলকে এবার স্বাধীনতা পদক দেওয়া হচ্ছে।
আর সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য এ পুরস্কার পাচ্ছেন প্রয়াত সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছাড়াও এ দেশের সব আন্দোলনেই তিনি অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রতিবছর এ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ পদক বিতরণ করবেন।

পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা একটি করে সোনার পদক এবং একটি সম্মাননাসূচক প্রত্যয়নপত্র পান। এর সঙ্গে নগদ পুরস্কার হিসাবে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

শেয়ার