কথা রেখেছেন মমতা, এপ্রিলে আসছেন মোদী

timthumb
সমাজের কথা ডেস্ক॥
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সায় দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়ে নিজের সম্মতি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

১৯ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের সফরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

২০ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত অভিন্ন নদী তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়ে তার ওপর আস্থা রাখতেও বলেছিলেন।

ঢাকা থেকে ফিরে মাত্র ১০ দিনের মাথায় বুঝি মমতা তার কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখলেন। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরে এই দুটি চুক্তি সম্পাদন হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাই বলছে সূত্রগুলো।

আর নরেন্দ্র মোদী এপ্রিলে ঢাকা আসবেন সে বিষয়টিও এখন প্রায় নিশ্চিত।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই আভাস দিয়েছেন।

একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দুই দেশ কাজ করে যাচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর সুব্রাহ্মনিয়াম এক দিনের সফরে ঢাকা এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোদীর চিঠি তুলে দিয়েছেন গত সোমবার (২মার্চ)। তাতে মোদী লিখেছেন- অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশ সফরের।

আর এরও আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ‘সুখবর নিয়ে আসছি।’

সূত্রগুলো বলছে, মোদী চাইছেন তিস্তা ও ছিটমহল চুক্তি মমতার উপস্থিতিতেই সম্পাদন করবেন।

১৯৯৬ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পানি বণ্টন চুক্তি হয়, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার সঙ্গে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।

পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকতারা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল সীমান্ত বা ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পাদনে আগেই সায় দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রশ্ন হল ভারততো দুটি বিষয়ে সমাধান করবে।

কিন্তু এর বিনিময়ে বাংলাদেশ কী দেবে তা নিয়েই চলছে দেনদরবার।

হতে পারে, উত্তর পূর্ব রাজ্যে যেতে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ট্রানজিট পেতে ভারতকে আর কোন শর্তেই আটকে রাখা যাবে না।

এ নিয়ে বাংলানিউজের কথা হচ্ছিলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই আনন্দের। মমতা যখন এসেছিলেন তখন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের একটি অনুষ্ঠানে একান্ত আলোচনায় তিনি বলেছিলেন, দেশে ফিরেই তিনি এটির ব্যবস্থা নেবেন। দ্রুতই তিনি তা নিয়েছেন।

‘আমি এতে অবাক নই কারণ মমতা ব্যানার্জি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যে প্রতিজ্ঞা বাংলাদেশে করছিলেন তার প্রমাণ রাখলেন, বলেন ওয়ালিউর রহমান।

আর এক সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও খুব গভীরভাবে সবকিছু সমাধান করার জন্য বাংলাদেশকে সতর্কভাবে এগুতে বলেছেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এখনই কোন কিছুই সম্পন্ন হয়নি। তবে কোন কিছুর বিনিময়ে তিস্তার সমাধান হোক সেটা আমি চাই না। প্রতিটি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে দেনদরবার করে নিজ স্বার্থে কাজ করে যেতে হবে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতায় ছিটমহল বিনিময় ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতার যে বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে বেরিয়ে আসতে তার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, অনেকের মনে প্রশ্ন আছে তিস্তা নিয়ে। আমার ওপর আস্থা রাখুন। ভরসা রাখুন। আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আপনাদেরও কিছু সমস্যা আছে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আমি হাসিনাদির (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের ওপর ছেড়ে দিন। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।

মমতা এখন তিস্তা ইস্যুতে ইতিবাচক অবস্থান দেখালেও ২০১১ সালে তার বিরোধিতার কারণেই সে সময়ের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহনের সফরকালে শেষ মুহূর্তে ঝুলে যায় চুক্তিটি।

ওই সময় মমতা বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ‘স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে’ এই চুক্তিকে তিনি সমর্থন করতে পারেন না। তবে মনমোহনের সেই সফরে স্থলসীমান্ত একটি চুক্তির প্রটোকল সই হয়, যার মধ্য দিয়ে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী দুদেশের ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের পথ খোলে।

কিন্তু এই প্রটোকল কার্যকর করতে ভারতের সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে থাকে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণেই।

ভারতের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করলে জট খোলার আশা তৈরি হয়।

তার উদ্যোগে সম্প্রতি স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরে মমতার সরকারের সায় পাওয়া যায়। বিষয়টি এখন ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায়। এদিকে, গত বছর নেপাল ও নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে জোর চেষ্টা চালানোর আশা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তিস্তা চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে এগিয়ে চলেছে দুদেশ।

শেয়ার