ফারাবী ১০ দিনের রিমান্ডে

farabi

সমাজের কথা ডেস্ক॥ লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হুমকিদাতা শাফিউর রহমান ফারাবীকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)পরিদর্শক ফজলুর রহমান মঙ্গলবার ফারাবীকে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক রেজাউল করিম পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড আবেদনের শুনানি করেন আদালত পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন।

তবে ফারাবীর পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবীকে দেখা যায়নি। তার জামিনেরও কোনো আবেদন ছিল না।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্বরের উল্টো পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লেখক অভিজিৎ রায়। হামলাকারীর চাপাতির আঘাতে তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অভিজিৎ কাজ করতেন একজন প্রকৌশলী হিসাবে। তার খুনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও প্রধান শিরোনাম হয়। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানায়।

হত্যাকান্ডের পরদিন শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়। অভিজিতকে হত্যার জন্য উগ্র জঙ্গিবাদীদের দায়ী করেন তিনি।

অভিজিৎ নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ফারাবীর নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। তিনি অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযোগ করে তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আসা একটি কমেন্ট শেয়ার করা হয়।

একজনকে উদ্দেশ করে ওই কমেন্টে বলা হয়, “অভিজিৎ রায় আমেরিকা থাকে। তাই তাকে এখন হত্যা করা সম্ভব না। তবে সে যখন দেশে আসবে তখন তাকে হত্যা করা হবে।”

উগ্রবাদীদের পক্ষে বিভিন্ন সময় কার্যক্রম পরিচালনাকারী ফারাবী বাংলা বই বিক্রির ওয়েবসাইট ‘রকমারি ডটকম’ থেকে অভিজিৎ রায়ের বই সরাতেও হুমকি দিয়েছিলেন এর আগে।

সোমবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ফারাবীকে গ্রেপ্তার করে র্যা বের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনিই লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন। পরে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আদালতে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ফারাবীর ফেইসবুক স্ট্যাটাসগুলো যাচাই-বাছাই এবং অপরাধে তার সংশ্লিষ্টতা কতোটুকু- তা খতিয়ে দেখতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

ফারাবী আগেই অভিজিতকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন উল্লেখ করে আদালত পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন আদালতকে বলেন, “উগ্রপন্থি সংগঠনের নেতা হত্যা মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং আবারও নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে।”

গোয়েন্দা পুলিশ ফারাবীকে নিয়ে তার ‘সমমনা উগ্র ব্লগারদের’ ধরতে অভিযানে যেতে চায় বলেও আদালতকে জানান তিনি।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি শাহবাগ আন্দোলনের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের জানাজা পড়ানোয় ইমামকে হত্যার হুমকি দিয়েও ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে ফারাবী।

ওইবছর ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকা থেকে পুলিশ ফারাবীকে গ্রেপ্তার করে। ফেইসবুক ব্যবহার করে ইমামকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জুন মাসে ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করে।

কিন্তু হাই কোর্টের জামিনে ২০১৩ সালের ২১ অগাস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যান ফারাবী। আর মুক্তি পেয়েই ‘নাস্তিকদের’ হত্যাকান্ড সমর্থন করে তিনি ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে বলা হয় “আমার দৃষ্টিতে নাস্তিকরা হচ্ছে পোকামাকড় আর পোকামাকড়দের মরে যাওয়াই ভাল।”

ফারাবী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যায় ভর্তি হলেও ২০১০ সালে হিজবুত তাহরীরে সক্রিয় হয়ে লেখাপড়া শেষ করেনি। নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে একমাস জেলও খাটতে হয়েছিল তাকে।

শেয়ার