খালেদার কার্যালয়ে তল্লাশির নির্দেশ আদালতের

bnp
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার সিএমএম আদালত। রোববার (১ মার্চ) বিস্ফোরক আইনে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গুলশান থানা পুলিশকে এ নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মাসুদ জামানের আদালত।
মামলাটির (নম্বর: ২৫ (২) ১৫) আসামি খালেদা জিয়াসহ ১৪ জন। পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ও হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে দু’দফা ককটেল হামলায় আহত হন ৬ জন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু।
আদালত সূত্র জানায়, দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এবার অন্য মামলায় তার কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে আদালতের অনুমতি নিয়েছে পুলিশ।
নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় পুলিশ তল্লাশি চালাতে পরোয়ানা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল।
ওই আবেদনে ঢাকার মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশির জন্য রোববার পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ওই কার্যালয়ে বিস্ফোরক থাকতে পারে এবং পলাতক আসামিরা সেখানে থাকতে পারেন। খালেদা জিয়া প্রায় দুই মাস ধরে গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৮৬ নম্বর সড়কের ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। কয়েকজন নেতা-কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে অর্ধশত ব্যক্তি তার সঙ্গে রয়েছেন।
ওই কার্যালয়ে অবস্থানের মধ্যেই গত সপ্তাহে জিয়া অরফ্যানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে ঢাকার জজ আদালত।
হরতাল-অবরোধ ডেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে অবস্থানের মধ্যে এই কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন কয়েক দফা তার কার্যালয় ঘেরাও করে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের নেতৃত্বে ঘেরাও কর্মসূচিতে হাতবোমা হামলা হয়, যাতে আহত হন বেশ কয়েকজন।
ওই ঘটনায় গুলশান থানায় যে মামলাটি হয়েছে, তাতেই খালেদার কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে আবেদন করে পুলিশ এবং তাতে আদালতের সায়ও পেয়েছে।
দশম সংসদ নির্বাচনের বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি পুলিশের বাধায় কার্যালয় থেকে বের হতে না পারে সেখানে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এরপর ওই কার্যালয় ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। কয়েকদিন বাদে পুলিশি বেষ্টনি সরিয়ে নেওয়া হলেও কার্যালয় ছাড়েননি খালেদা। মালয়েশিয়া থেকে ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের লাশ এলে কার্যালয়ে থেকেই ছেলেকে শেষ বিদায় জানান তিনি।
প্রধান ও হুকুমের আসামি খালেদা ছাড়া অন্য ১৩ জন আসামি হচ্ছেন: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ, শিরিন সুলতানা, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, হুমায়ুন কবির, এমএ কাইয়ুম, দেওয়ান সালাউদ্দিন, মোস্তফা, মামুন ও মানিক।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার ওসি ফিরোজ কবির আদালতে তল্লাশির আবেদন জানান। তিনি শুনানিতে বলেন, খালেদা জিয়াসহ মামলাটির অন্য আসামিরা কার্যালয়টিতে পালিয়ে আছেন। নাশকতার কাজে ব্যবহার হতে পারে এ ধরনের বিস্ফোরক বা অন্যসব দ্রব্য সেখানে মজুদ থাকতে পারে। এজন্য কার্যালয়টিতে তল্লাশি করা প্রয়োজন।
তল্লাশি পরোয়ানার প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ জজ আদালতের দেওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সিএমএম আদালতের দেওয়া তল্লাশি পরোয়ানা একই সূত্রে গাঁথা। এটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতি নগ্ন হস্তক্ষেপ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, লুকোচুরি করে আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা জারি করা আইনের বিধানের পরিপন্থি।

শেয়ার