সৌদি শ্রমবাজার উন্মুক্ত, ভিড় বাড়ছে কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে॥ যশোরে ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় গেলেন ৭১ জন

sowdi
সালমান হাসান ॥
বিদেশে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় বাড়ছে যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে। সৌদি শ্রমবাজার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর যশোর, নড়াইল ও মাগুরা জেলা থেকে লোকজন বৈধভাবে অভিবাসন নিশ্চিত করতে নিজেদের ডাটাবেজ নেটওয়ার্ক তালিকাভুক্ত করতে এ ভিড় করছেন। এ অফিসে নিবন্ধন করে ইতিমধ্যে ৭১ জন মালয়েশিয়ায় গেছেন। এজন্য তাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার টাকা।
যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম জানান, সৌদি আরব সরকার তাদের দেশে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বৈধভাবে বিদেশে চাকরির জন্য যেতে দুই হাজার ৬১৮ জন নিবন্ধন করেছেন। আর এ অফিসে নিবন্ধন করে ৭১ জন ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে ভিসা পেয়ে মালয়েশিয়ায় গেছেন। এজন্য তাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার টাকা। আর চলতি মাসে ১০ জনের ভিসা এসেছে। যারা মালয়েশিয়া যাবার জন্য নিজেদের নাম যশোর অফিসে নিবন্ধন করেছিলেন।
জানা যায়, সরকারিভাবে বিদেশে যেতে যশোর, নড়াইল ও মাগুরা জেলার বাসিন্দারা যশোরের এই অফিসে নিবন্ধন করেন। কিন্তু এজন্য পে-অর্ডার শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংক আরএন রোড শাখায় জমা নেওয়া হচ্ছে। তাই অনেক সময় দুর্ভোগে পড়ছেন জেলা তিনটির প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, বিদেশ চাকরি করতে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের বৈধ রিক্রটিং এজেন্সির নাম ও ঠিকানা এ অফিস সরবরাহ করে। ডাটাবেজে নাম নিবন্ধকরণের যাবতীয় পরামর্শ দেয় এ অফিস। বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, অবৈধ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দ্বারা প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়াসহ দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য এ অফিস সরবরাহ করে।
যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের জনশক্তি জরিপ অফিসার ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা কাজী মূর্তাজা আলী জানান, বিদেশে চাকরির জন্য যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নাম নিবন্ধন করতে সরকারি বিধিমোতাবেক ২৮০ টাকা পে-অর্ডার সোনালী ব্যাংক আরএন রোড শাখায় জমা দিতে হবে। তবে পূর্বে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের নিবন্ধনের মেয়াদ দুই বছর না পার হলে নতুন করে নিবন্ধনের দরকার নেই।
নাম নিবন্ধন করতে আসা শহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিবন্ধন করতে তাদের কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। সহজেই নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে।
জানা যায়, যশোর কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস থেকে এ পর্যন্ত বিদেশে মৃত ব্যক্তিদের দাফন ব্যয় বাবদ ৩৬ কোটি ৭০ লাখ, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯৬ জনের পরিবারকে দুই কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯৭ টাকা দিয়েছেন। এছাড়া বিদেশে শ্রমিকদের অসুস্থতা জনিত ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুইজনকে এক লাখ টাকা করে দিয়েছেন। এর বাইরে বিদেশে অবস্থান করা ১০৮ জনকে অসুস্থতার কারণে অনুদান দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

শেয়ার