যশোরে আ’ লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড॥ সাড়ে তিন মাসেও আটক হয়নি আসামি, জানা যায়নি হত্যারহস্য

hottakando 2
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম হত্যার সাড়ে তিন মাসেও কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটকও করতে পারেনি। এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ খুনের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এমনকি খুনিরা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের নানা হুমকি-ধামকি দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গেড়াদিয়া শালকের বিল লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু এলাকার চি‎িহ্নত সন্ত্রাসী সবুজ, কালাম, মোস্তফা, ইকবাল, রবি, নজরুল ইসলাম, লিটন, আব্দুল হাই, আব্দুল, রাজ্জাক, খরু, বাবুল, মকলেস, সাকাত আলী, রনি ও ইকবাল হোসেনসহ অনেকে শহিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই সন্ত্রাসীরা শহিদুল ইসলামকে হত্যাসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়। এরই জের ধরে গত বছরের ১৬ নভেম্বর শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানুর রহমান ও ভাগ্নে রুবেল মোটরসাইকেলে যশোর শহরের দিকে আসার সময় ওই সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এঘটনায় ওই দিন শহিদুল ইসলামের আরেক ভাই এজাজ আহম্মেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়। এরই জের ধরে ওই সন্ত্রাসীরা ১৭ নভেম্বর বিকেলে এলাকার দাউদ আলী নামে জনৈক এক ব্যক্তির বাড়িতে গোপন বৈঠক করে। ওই বৈঠকে তারা শহিদুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৎস্যঘের পাহারা দেয়ার সময় শহিদুলকে কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় সে সময় তড়িঘড়ি করে সাঁজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই গোলাম মোর্ত্তজা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহারে গড়মিল দেখে নিহতের বোন ইয়াছমিন মনু বাদী হয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরো একটি মামলা করেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করায় এ মামলাটি আদালত গ্রহণ করে। তবে ফৌজদারী কার্য বিধিতে একই ঘটনায় একাধিক মামলা না হওয়ার বিধান না থাকায় তা স্থগিতাদেশ দেন।
এদিকে, পুলিশের দায়ের করা মামলাটি থানা পুলিশ ইতিপূর্বে তদন্ত করেছে। তবে কোন আসামি আটক বা হত্যারহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সম্প্রতি ওই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আমিনুর রহমান।
তিনি জানান, সম্প্রতি মামলাটির তদন্তভার পেয়েছি এখনো কোন আসামি আটক বা হত্যারহস্য উদঘাটন করতে পারিনি।
এদিকে নিহতের ভাই এজাজ আহম্মেদ জানান, গত সাড়ে তিন মাসেও এ হত্যাকান্ডে কাউকে পুলিশ আটক বা হত্যারহস্য উদঘাটন করতে না পারায় আসামিরা আবারো প্রকাশ্যে এলাকায় এসে পরিবারের সদস্যদের খুনগুম করার হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা।

শেয়ার