মুখোমুখি তাসমান সাগরের এপার-ওপার

PREVIEW
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তাসমান সাগরের পূর্ব পাড়ে নিউ জিল্যান্ড আর পশ্চিম পাড়ে অস্ট্রেলিয়া। সাগর তাদের আলাদা করলেও দুই দেশের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব। বিশ্বকাপ ক্রিকেট একটি দিনের জন্য হলেও দুই দেশকে ‘শত্রু’ বানিয়ে দিচ্ছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে ‘বড় ম্যাচে’ মুখোমুখি টুর্নামেন্টের অন্যতম দুই ফেভারিট দল।
শনিবার নিউ জিল্যান্ডের অকল্যান্ডের মাঠ ইডেন পার্কে সহ-আয়োজক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বাগতিকদের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়।
এই ম্যাচ নিয়ে চায়ের কাপে অনেক আগে থেকেই ঝড় চলছে। কোন দল ফেভারিট-ক্রিকেট বিশ্বে জল্পনা-কল্পনা চলছে এ নিয়ে। ম্যাচটি নিউ জিল্যান্ডের মাঠে বলে কোনো ক্রিকেট পন্ডিত হয়ত তাদেরই এগিয়ে রাখছেন। অন্য একজন আবার পাল্টা যুক্তি টেনে অস্ট্রেলিয়ার পিঠে ফেভারিটের তকমা দিতে ব্যাকুল।

ক্রিকেট বোদ্ধা বা পাঁড় সমর্থকদের এই তর্কের জগতে কিন্তু দেশ দুটির খেলোয়াড় কর্মকর্তারা মোটেই কান দিচ্ছেন না। ম্যাচের আগের দিনও বন্ধুর থালায় খাবার ঠেলে দেওয়ার মতো করে দুই দেশের অধিনায়ক একে অন্যের পিঠে ফেভারিট তকমা ঝুলিয়ে দিতে চাইছেন।

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক যেমন বললেন, “গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমাদের একটি টিম মিটিং হয়েছে। আমি ছেলেদের বলেছি এবং খুব পরিষ্কার করে দিয়েছি, আমার ক্যারিয়ারে… আমি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো সহজ ম্যাচ মনে করতি পারছি না।”

নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সুরটাও একই রকম।

“অস্ট্রেলিয়া অনেক বছর ধরে ভালো খেলছে এবং বিশ্বকাপে তারা অসাধারণ।”

এই বলাটা অবশ্য বন্ধুত্বের খাতিরে নয়, এটা ক্রিকেট অনুসারী মাত্রই বুঝতে পারবেন। আসলে ফেভারিট তকমার চাপটা কোনো দলই নিতে চায় না। কিন্তু একটি দিনের জন্য বন্ধুত্বের বন্ধন তুলে রেখে একে অপরকে হারানোর অঙ্ক কষায় বসে নেই কোনো দলই।

ম্যাচের আগের দিন দুই অধিনায়কের কথায় তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন যেমন ধরা পড়েছে, তেমনি টের পাওয়া যাচ্ছে রোমাঞ্চকর এক ক্রিকেট লড়াইয়ের আঁচও। আর সেটা থাকাটাই স্বাভাবিক। এই ম্যাচে জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে সেমি-ফাইনালে দুটি দেশ মুখোমুখি হলে ম্যাচটি কোথায় হবে।

যে দল এই ম্যাচ জিতবে, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে সেই দলেরই গ্রুপ পর্ব শেষ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এতে সুবিধা আছে আরেকটি; সেমি-ফাইনালে দুই দল আবার মুখোমুখি হলে গ্রুপে পয়েন্টে এগিয়ে থাকা দলটি নিজেদের মাঠে তা খেলার সুযোগ পাবে।

ইডেন পার্কে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া দলের সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপ হিউজের অকাল-মৃত্যুতে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের দারুণভাবে শ্রদ্ধা দেখানোর কথার পথ ধরে স্লেজিং প্রসঙ্গটি ওঠে। নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেই ক্লার্ক লড়াই জয়ের জন্য যাবতীয় কিছু করার কথা বলেন।

“আমি বলি, (স্লেজিংয়ের) একটা সীমা আছে, যেটা আপনি অতিক্রম করতে পারেন না। সবাই জানে সীমা কোথায় এবং সেটা ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে না।…তবে দলকে জয়ের সীমানায় নিতে যা করা দরকার, তা করতে হবে।”
এ ক্ষেত্রে ম্যাককালাম আত্মবিশ্বাস খুঁজছেন ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের উন্মাদনা থেকে।

“ঘরের মাঠে খেলাটা দারুণ এবং আমাদের জন্য এটাই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য্য। বিশ্বের সবচেয়ে সেরা দলটির বিপক্ষে বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের মাটিতে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য জীবনের সেরা সুযোগ।”
দুই দলের জয়ের আঁকুতিই বলে দিচ্ছে শনিবার দিনটি হয়ত দারুণ এক রোমাঞ্চ নিয়েই অপেক্ষা করছে ক্রিকেট বিশ্বের জন্য। রোমাঞ্চ থাকবে আসলে লড়াইয়ের মধ্যে লড়াইয়েও।
অস্ট্রেলিয়ার টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে নিউ জিল্যান্ডের ফর্মে থাকা দুই ফাস্ট বোলার টিম সাউদি আর ট্রেন্ট বোল্টের দ্বৈরথটা বেশ জমজমাট হবে বলেই মনে করেন অনেকে।
আরেক পিঠেও ঠিক এমনই এক দ্বৈরথ অপেক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়ার দুই গতি তারকা মিচেল জনসন ও মিচেল স্ট্যার্কের সঙ্গে ম্যাককালাম আর কেন উইলিয়ামসনের লড়াই দেখার জন্য তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।
ওয়ানডেতে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও দারুণ। নিউ জিল্যান্ড তাদের সবশেষ ৫ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে। অস্ট্রেলিয়াও সেখানে পাঁচে পাঁচ। সব মিলিয়ে বিশ্বজোড়া ক্রিকেটপ্রেমীরা একটি প্রত্যাশা নিয়েই টিভি সেটের সামনে বসবে-অসাধারণ এক ক্রিকেট উপাখ্যানই হয়তো রচিত হবে ইডেন পার্কে।

শেয়ার