বিশ্বকাপেও ডি ভিলিয়ার্স তাণ্ডব দেখল বিশ্ব

dvi

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ক্রিকেটের সবচেয়ে বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানদের একজন এবি ডি ভিলিয়ার্স বিশ্বকাপের বড় মঞ্চেও দেখালেন তার ব্যাটিংয়ের ঝলক।
বিশ্বকাপের ঠিক আগেই দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজে ওয়ানডের দ্রুততম অর্ধশতক ও শতকের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। এবার বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে গড়লেন দ্রুততম দেড়শ’ রানের রেকর্ড।

আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫২ বলে করা ডি ভিলিয়ার্সের শতকটি ওয়ানডের সেরা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় দ্রুততম।

বিশ্বকাপে দ্রুততম শতকের রেকর্ডটি আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়ানের। গত আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে দারুণ জয় এনে দেয়ার পথে ৫০ বলে শতক করে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

গত জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৯ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৬ বলে অর্ধশতক ও ৩১ বলে শতকে পৌঁছে রেকর্ড করেছিলেন ডি ভিলিয়ার্স।

শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং তান্ডবে ৫ উইকেটে ৪০৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১৫১ রানে অলআউট হয়ে গেলে ২৫৭ রানের বিশাল জয় পায় প্রোটিয়ারা।
৬৬ বলে খেলা ডি ভিলিয়ার্সের অধিনায়কোচিত অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসটি ১৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো। তার ১১৬ রানই আসে চার-ছক্কা থেকে। ২২টি এক ও ১২টি দুই রানও নেন ডি ভিলিয়ার্স। সব মিলিয়ে ৫৯ বল থেকে রান করেন তিনি, রান পাননি কেবল ৭টি বলে।

৩০ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানো ডি ভিলিয়ার্স তিন অঙ্কে পৌঁছান ৫২ বলে। তার তৃতীয় অর্ধশতকটি আসে মাত্র ১২ বলে।

আগের ম্যাচে ভারতের কাছে ১৩০ রানের লজ্জাজনক হারে তেতে ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কিছুই তার ভাবনায় ছিল না তার।

শুরুতে দেখেশুনেই খেলছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। সে সময় রানের গতি বাড়ানোর কাজটা করছিলেন রিলি রুশো। শুরুতে রুশোকে স্ট্রাইক দিয়ে খেলছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

মুখোমুখি হওয়া ১৯তম বলে প্রথম চার হাকান ডি ভিলিয়ার্স। এক আগ পর্যন্ত এক-দুই রান নিয়ে খেলছিলেন তিনি।

৪০তম ওভারে সুলেমান বেনের বলে একস্ট্রা কাভার দিয়ে প্রথম ছক্কা হাকান ডি ভিলিয়ার্স। অফ সাইডে এটাই তার এক মাত্র ছক্কা। বাকি সাতটি ছক্কাই তিনি হাকান লেগ সাইডে।

শেষ দিকে রীতিমত খুনে মেজাজে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। জ্যাসন হোল্ডারের করা ৪৮তম ওভারে ৩৪ রান আসে, তার ৩২ রানই নেন ডি ভিলিয়ার্স।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শেষ ওভারটিও করেন হোল্ডার। সেই ওভারে ৩০ রান নেন ডি ভিলিয়ার্স।

মুখোমুখি হওয়া শেষ ১৬ বলে ৬৯ রান সংগ্রহ করেন ডি ভিলিয়ার্স। প্রচলিত, অপ্রচলিত সব শট খেলে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন তিনি।

হোল্ডারের ২১ বল থেকে ৭৬ রান করেন ডি ভিলিয়ার্স। তার আট ছক্কার ছয়টিই আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কের বল থেকে। বাঁহাতি স্পিনার বেনের ১০ বল থেকে ৩১ এবং পেসার আন্দ্রে রাসেলের ১৬ বল থেকে ৩৩ রান নেন তিনি।

তিনশ’ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। তাই ৩২০ রানের লক্ষ্য দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চারশ’ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেন তারা।

হাশিম আমলা ও ফাফ দু প্লেসির ১২৭ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

৩০তম ওভারে ডি ভিলিয়ার্স ক্রিজে আসার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৪৬ রান। ভালো ভিত তাকে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দেয় জানিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, “আজকের ইনিংস খুব উপভোগ করেছি। এটি সেই সব ইনিংসের একটি, যেখানে সব কিছু আমার পক্ষে এসেছে এবং একটু ভাগ্যেরও সহায়তা ছিল।”

শেয়ার