দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে উড়েই গেল উইন্ডিজ

207119

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দাঁড়াল দারুণভাবে। টানা দুই ম্যাচে বড় জয় পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লজ্জায় ডুবিয়েছে এ আসরের অন্যতম ফেভারিটরা। এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং আর ইমরান তাহিরের বোলিংয়ে ২৫৭ রানের জয় পেয়েছে প্রোটিয়া দল।

ভারতের কাছে ১৩০ রানে হেরে চাপে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। শুক্রবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়কের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪০৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ভালো শুরুর সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ম্যাচ সেরা ডি ভিলিয়ার্স। ওয়ানডের দ্রুততম দেড়শ’ রানের রেকর্ড গড়া এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের তান্ডবে শেষ ২০ ওভারে ২৬১ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ উইকেটে ৪০৮ রানের জবাবে ৩৩ ওভার ১ বলে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভীষণ বিপদে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডারের অর্ধশতকে কোনোমতে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় হার এড়ায়। কিন্তু বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় হারের লজ্জা এড়াতে পারেনি তারা। ২০০৭ সালের আসরে ভারতের কাছে ২৫৭ রানেই হেরেছিল বারমুডা।

তিনশ’ রানের লক্ষ্য তাড়া করে কখনই জিততে না পরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকিয়ে ছিল ক্রিস গেইলের দিকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই দ্বিশতক করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবার ভালো করতে পারেননি।

কাইল অ্যাবটের করা দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড হয়ে যান গেইল। পরের ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসবন্দি করেন করেন দলে ফেরা অ্যাবট।

ভালো করতে পারেননি জোনাথন কার্টারও। মর্নে মরকেলের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে মাত্র ১০ রান করেন তিনি।

বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন ইমরান তাহির। প্রথম ওভারেই ডোয়াইন স্মিথ ও লেন্ডল সিমন্সকে ফিরিয়ে দেন এই লেগস্পিনার। জেরোম টেইলের এক হাতের দারুণ ক্যাচে পরিণত হওয়া ডেভিড মিলার ততোধিক দর্শনীয় ক্যাচে বিদায় করেন ডোয়াইন স্মিথকে। আর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লেন্ডল সিমন্স।

নিজের চতুর্থ ওভারে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন তাহির। স্টাম্পিং হয়ে যান ড্যারেন স্যামি আর শর্ট থার্ড ম্যানে অ্যাবটের চমৎকার এক ক্যাচে পরিণত হন আন্দ্রে রাসেল।

৬৩ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ একশ’ পার হয় দিনেশ রামদিন ও হোল্ডারের দৃঢ়তায়। তাদের ৪৫ রানের জুটি ভেঙে নিজের পঞ্চম উইকেট নেন তাহির।

পাল্টা আক্রমণে অর্ধশতক করে ফিরে যান হোল্ডারও। ৪৮ বলে খেলা তার ৫৬ রানের ইনিংসটি গড়া ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায়। তার বিদায়ের পর এক রান যোগ করেই শেষ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।

৪৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার তাহির।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়া দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালো হয়নি। ষষ্ঠ ওভারেই বিদায় নেন ডি কক। হোল্ডারের বলে রাসেলের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে ফাফ দু প্লেসির সঙ্গে ১২৭ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন হাশিম আমলা। অর্ধশতকে পৌঁছানো এই দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরানোর কৃতিত্ব গেইলের।

৩০তম ওভারে তিন বলের মধ্যে দু প্লেসি ও আমলাকে ফেরান গেইল। দু প্লেসিকে (৬২) রামদিনের গ্লাভসবন্দি করে ২৩.৪ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন তিনি। এক বল পর আমলাকে (৬৫) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন গেইল।

দু প্লেসি ও আমলার বিদায়ের কোনো প্রভাব পড়তে দেননি ডি ভিলিয়ার্স ও রিলি রুশো। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৭৫ বলে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন এই দুই জনে।

রাসেলের বলে রামদিনের গ্লাভসবন্দি হয়ে রুশোর (৬১) বিদায়ে ভাঙে ১২.৩ ওভার স্থায়ী চতুর্থ উইকেট জুটি। তার ৩৯ বলের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় গড়া।

পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলারের সঙ্গে ৪.৩ ওভারে ৪৮ রানের আরেকটি জুটি উপহার দেন ডি ভিলিয়ার্স।

মিলার ফিরে গেলেও থামেনি ডি ভিলিয়ার্স ঝড়। উদ্ভাবনী সব শট খেলে তিনি এলোমেলো করে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং পরিকল্পনা। তার ঝড়ের সবচেয়ে বড় ঝাপটা যায় হোল্ডারের ওপর দিয়ে। তার করা ৪৮তম ওভারে ওঠে ৩৪ রান। ইনিংসের ও হোল্ডারের শেষ ওভারে ৩০ রান তুলে নেন ডি ভিলিয়ার্স নেন।

অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে ফারহান বেহারদিনের সঙ্গে মাত্র ৩.২ ওভারে ৮০ রানের জুটি গড়েন ডি ভিলিয়ার্স।

শেষ পর্যন্ত ১৬২ রানে অপরাজিত থাকেন ডি ভিলিয়ার্স। তার ৬৬ বলের ইনিংসটি ১৭টি চার ও ৮টি ছক্কা সমৃদ্ধ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের গেইল ও রাসেল দুটি করে উইকেট নেন।

ম্যাচ সেরা: এবি ডি ভিলিয়ার্স।

শেয়ার