দক্ষিণ কোরিয়ার ৬৩ বছরের ভ্রষ্টাচার আইন বাতিল

south korea
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ক্রমবর্ধমান সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ব্যভিচারকে আর আপরাধ হিসেবে দেখতে চাইছে না দক্ষিণ কোরিয়া। তাই ১৯৫৩ সালে গৃহীত এ আইনটিকে বুধবার বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এ আইনে অভিযুক্তদের দু বছরের বেশি কারাদন্ড দেয়ার বিধান ছিল।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বাতিল করার আগে গত ৬৩ বছর ধরে এ আইনের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১ লাখ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এশিয়ার যে তিনটি দেশে ব্যাভিচারকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
এর আগে আইনটি পর্যবেক্ষণের সময কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে এ আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থা এয়োনহাপ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজে লোকজন বিয়ের চাইতে ব্যক্তিগত জীবনকে বেশি প্রাধান্য দেয়ায় আইনটি বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল করার আগে আইনটি চার চার বার পর্যবেক্ষণ করেছিল আদালত। পর্যবেক্ষণ শেষে এর প্রয়োগ স্থগিত করা হয়েছিল। এর ওপর শেষ শুনানি হয় ২০০৮ সালে। তখন পাঁচ বিচারক এটিকে অসাংবিধানিক বলে বিবেচনা করেছিলেন। এ বিষয়ে তাদের যুক্তি ছিল, ব্যাভিচার নৈতিক দিক থেকে নিন্দার যোগ্য হলেও একে কোনোভাবেই ফৌজদারী আইন হিসেবে মেনে নেয়া যায় না।
তবে বহুদিন ধরেই সেকেলে বলে এ আইনের নিন্দা করে আসছিলেন সমালোচকরা। তাদের মতে, এ ধরনের আইন দিয়ে মানুষের ব্যক্তি জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে না আদালত।
তবে দেশটির অল্প সংখ্যক নাগরিক এ আইনের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, এ আইন বাতিলের মাধ্যমে সমাজে যৌন ভ্রষ্টাচারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

শেয়ার