টানা হরতাল-অবরোধ শিক্ষা খাতে নেতিবাচক প্রভাব

jessore education board
শ্রাবণ সরকার॥
বিএনপি জোটের টানা হরতাল অবরোধের কারণে সারাদেশের মতো যশোরেও শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রায় মাস খানেক আগে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার অর্ধেকই শেষ করা সম্ভব হয়নি। সংগত কারণে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান রয়েছে বন্ধ। আর নির্ধারিত সময়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করতে না পারার আশঙ্কা করছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
চলতি বছরের প্রথম মাসের ৬ তারিখ থেকে সারাদেশের সাথে যশোর টানা অবরোধের কবলে পড়ে। একই সাথে দফায় দফায় দেওয়া হচ্ছে হরতাল। ইতিমধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি-জামায়াত জোট হরতাল দিয়েছে ২৭ দিন। তবে এসব হরতাল অবরোধের মধ্যে যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট খোলা থাকলেও জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন জানান, জেলায় ৫৩৬টি মাধ্যমিক ও ৩২০টি মাদ্রাসা রয়েছে। চলমান হরতাল অবরোধের কারণে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে তেমন প্রভাব না পড়লেও শহরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একটু কম। তাই নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এভাবে টানা হরতাল অবরোধের কারণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) কার্যত অচল রয়েছে। ক্লাস না হওয়ায় সেশন জটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। হরতাল অবরোধের কারণে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে চলতি সেশনে ভর্তিইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।
এব্যাপারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াতুজ্জামান মুকুল জানান, চলমান হরতাল অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিশেষ করে পাঠদান ও নিয়মিত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে মার্চ থেকে যাতে ক্লাস শুরু করা যায় কর্তৃপক্ষ সেবিষয়ে ভাবছেন।
এদিকে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা হরতালের কারণে নির্ধারিত তারিখে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে না। এজন্য তারা আসছে এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন।

শেয়ার