এটা গণহত্যা: প্রধানমন্ত্রী

pm
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অবরোধে গাড়িতে পেট্রোল বোমা ও আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এটা তো মানুষ খুন করা। এরা তো খুনের দায়ে অভিযুক্ত। এটা তো গণহত্যা করা। বিএনপি-জামাত জোট মিলে গণহত্যা চালাচ্ছে।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এই ‘বীভৎস কর্মকা-’ বন্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আল্লাহ তাদের সুমতি দিক, তারা যেন এই ধরনের কাজ বন্ধ করে।
“এটা কোনো মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়ে সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দেন। অবরোধের মধ্যেই হরতালের ডাক আসছে তাদের পক্ষ থেকে।
অবরোধ-হরতালের তেমন কোনো প্রভাব জনজীবনে না পড়লেও যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপে, অগ্নিসংযোগ ও হাতবোমার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
প্রায় দুই মাসের অবরোধে সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সোসাইটি অফ প্লাস্টিক সার্জনস বাংলাদেশ’ আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেটা অত্যন্ত অমানবিক, যেটা চিন্তাই করা যায় না। এই ভাবে মানুষ মানুষকে পুড়িয়ে মারবে?
“বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল। মানুষের জন্য রাজনীতি। মানুষের একটু সুন্দর জীবন দেওয়া, মানুষের ভালো করা, মানুষকে উন্নত জীবন দান করা, মানুষের সমস্যাগুলো দূর করা- এই তো রাজনীতির উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য কীভাবে হাসিল হবে যদি দেখি সেই সাধারণ মানুষকেই হত্যা করা হচ্ছে?”
হরতাল- অবরোধের ডাকে মানুষ সাড়া না দেওয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যেহেতু তাদের ডাকে জনগণ সাড়া দিচ্ছে না, তাদের হরতালও কার্যকর হচ্ছে না, অবরোধও কার্যকর হচ্ছে না; সেজন্য ভীতি সৃষ্টি করতে মানুষের গায়ে পেট্রোল বোমা মারা হচ্ছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।

“বাসে সাধারণ যাত্রী চলাচল করে, সেখানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাচ্ছে- সেখানে পেট্রোল বোমা মারছে বা বোমা মারছে। এটা কোন ধরনের জুলুম?”

ক্ষোভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষের গা লক্ষ্য করে বোমা মারা হচ্ছে, পেট্রোল বোমা মারা হচ্ছে। মানুষকে পোড়ানো, মানুষকে মারা- এটাই হচ্ছে যেন আন্দোলন।নিরীহ, সাধারণ, খেটে খাওয়া মানুষের গায়ে আগুন দেওয়া হচ্ছে। ট্রেন লাইনের ফিস প্লেট খুলে, ট্রেন ফেলে, অ্যাকসিডেন্ট ঘটিয়ে মানুষ মারা। সিএনজি, রিকশা কোনো কিছু বাদ যাচ্ছে না। এমনকি লঞ্চেও আগুন দিচ্ছে।”

সম্প্রতি মুরগির বাচ্চা বোঝাই একটি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মুরগির বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছে। সেটাও রেহাই পায় নাই, আগুন দেওয়া হয়েছে। এটা কোন ধরনের বীভৎসতা?”

এই ধরনের কর্মকান্ডকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী হিসাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা কোন ধরনের রাজনীতি? এটা তো রাজনীতি না। এটা সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড।

“শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে পোড়ানো হচ্ছে।এটা সহ্য করা যায় না।এটা খুব দুঃখের, খুব কষ্টের।”

“একটা মানুষ কীভাবে অন্য মানুষকে পুড়িয়ে মারছে,” প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার