স্বপ্ন পূরণে এবার লঙ্কার বাধা

BD SRI

সমাজের কথা ডেস্ক॥ অনেকটা ‘নড়বড়ে’ শ্রীলঙ্কার সামনে উজ্জ্বীবিত বাংলাদেশ। কোয়ার্টার-ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে যেতে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় চাই তাদের।
বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজিতে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায়।
কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলতে হলে স্কটল্যান্ড ম্যাচে জয় ধরে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে যে কোনো একটি দলকে হারাতেই হবে বাংলাদেশের। নিজেদের চাপমুক্ত রাখতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই জয় তুলে নিতে চাইবে তারা।
এমসিজিতে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্য দিকে মেলবোর্নের এই মাঠে এর আগে ১৭টি ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কা, যার ছয়টিতে জয় রয়েছে তাদের।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৫ রানের জয়ে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা দারুণ হয় বাংলাদেশের। বৃষ্টির তান্ডবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।
৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে তিন নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্য দিকে, নিউ জিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া শ্রীলঙ্কা পরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারায় অনেক ঘাম ঝরিয়ে।
বিশ্বকাপের তৃতীয় প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে খুব ভালো করে চেনে বাংলাদেশ। এই দলটির বিপক্ষে খেলা ৩৭ ম্যাচের চারটিতে জয় রয়েছে তাদের। অন্য ৩২টি ম্যাচে জিতে শ্রীলঙ্কা, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
শুরুতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে পার্থক্য এখন কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কয়েক ম্যাচে খুব কাছে গিয়ে হারে তারা।
বাংলাদেশের কয়েকজন কোচ শ্রীলঙ্কার সাবেক খেলোয়াড়। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, চন্দিকা হাথুরুসিংহেরা শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পরিকল্পনা আঁটছেন। কোচদের দেয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জেতা অসম্ভব নয়।

জয় ছাড়া আরো কিছুই ভাবছে না বাংলাদেশ। মাশরাফি জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জেতা সম্ভব। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাই হবে এই ম্যাচে তাদের প্রধান কাজ।
এমসিজির উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কোনো সহায়তা নেই। রান উৎসব হতে পারে এই ম্যাচেও। তাই ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে ভালো শুরু চাইলেন মাশরাফি।
মেলবোর্নের বিশাল মাঠে চার-ছক্কা কম হতে পারে। তাই এক-দুই রানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে পারেন এনামুল হক। ব্যাট করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না আঙুলে চোট পাওয়া মুশফিকুর রহিমের। তবে উইকেটের পেছনে তিনি দাঁড়াবেন কি না জানতে আরো অপেক্ষা করতে বাংলাদেশকে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একজন ব্যাটসম্যান কমাতে পারে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে যুক্ত হতে পারেন তাইজুল ইসলাম বা আরাফাত সানি।
মাশরাফির বিশ্বাস, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ভালো করবেন বাংলাদেশের পেসাররা। রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদের গতি মেলবোর্নেও দলকে সাফল্য এনে দিতে পারে।
“মাত্র এক ম্যাচ খেলেই আলোচনায় চলে এসেছে রুবেল, তাসকিন। ওরা বেশ জোরে বল করতে পারে।”
লাসিথ মালিঙ্গা, সুরঙ্গা লাকমাল, রঙ্গনা হেরাথ সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কার বোলিং লাইনআপকে ভয় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। চোট কাটিয়ে ফেরার পর এখনো ছন্দে খুঁজে পাননি মালিঙ্গা। ছন্দে না থাকা এই পেসারের জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।
মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারতেœ দিলশান বা চারশতম ওয়ানডে খেলতে যাওয়া কুমার সাঙ্গাকারাদের নিয়ে ভেবে নিজেদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে না বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার দুই অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও থিসারা পেরেরারাও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য হুমকি। পয়মন্ত মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দিতে চাওয়ার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছেন থিসারা।

অধিনায়ক ম্যাথিউস জানান, বিশ্বকাপের এই ম্যাচ দুই দলের জন্যই চাপের হতে যাচ্ছে। জিততে হলে নিজেদের সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে এই ম্যাচে।
ক্যানবেরার ম্যানুকা ওভালে প্রচুর সমর্থক ছিল বাংলাদেশের। মেলবোর্নে চিত্রটা বিপরীত হতে পারে। গ্যালারিতে শ্রীলঙ্কার ভক্তরাই এগিয়ে থাকবে। তবে মাশরাফির বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের প্রচুর সমর্থক আসবে।
মাশরাফি জানান, আল-আমিন কান্ডের কোনো প্রভাব বাংলাদেশ দলে পড়বে না। এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনের দিকে তাকাতে চায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দলের বিতর্কতে পেছনে ফেলতে চায় তারা।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ডের জয়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপের এই আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি উপহার দিল আইসিসির সহযোগী দুই দেশ। শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে আয়ারল্যান্ড।
বুধবার ব্রিসবেনের গ্যাবায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৭৮ রান করে আরব আমিরাত। জবাবে ৪ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পৌঁছে যায় আইরিশরা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই পল স্টার্লিংকে হারায় আয়ারল্যান্ড। ৬৮ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও এড জয়েস। তাদের চমৎকার জুটির পরও ৯৭ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে আয়ারল্যান্ড।
নায়াল ও’ব্রায়ানের সঙ্গে ৭৪ ও কেভিন ও’ব্রায়ানের ৭২ রানের দুটি চমৎকার জুটি দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান গ্যারি উইলসন।
মাত্র ২৫ বলে ৫০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জয়ে দারুণ অবদান রাখেন কেভিন। তবে ব্যক্তিগত ২৪ রানে কৃষ্ণ চন্দ্রনের হাতে তিনি জীবন না পেলে খেলার চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।

কেভিনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রান আর বলের সমীকরণটা সহজ হয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের জন্য। তবে চার বলের মধ্যে জন মুনি ও উইলসনকে বিদায় করে শেষ ওভার পর্যন্ত আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল আরব আমিরাত।
ম্যাচ সেরা উইলসনের ৬৯ বলে খেলা ৮০ রানের চমৎকার ইনিংসটি ৯টি চার সমৃদ্ধ। অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে উইলসন বিদায় নেয়ার সময় ১৫ বলে ১২ রান প্রয়োজন ছিল আয়ারল্যান্ডের।
তবে বাকি কাজটুকু সহজেই সারেন আলেক্স কুসাক ও জর্জ ডকরেল। তাদের দৃঢ়তায় চার বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড।
আরব আমিরাতের আমজাদ জাভেদ ৩ উইকেট নেন ৬০ রানে।
এর আগে আন্দ্রি ব্যারেঙ্গারের সঙ্গে ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন আমজাদ আলি। ব্যারেঙ্গারের বিদায়ের পর ছোটখাটো এক ধসে চাপে পড়ে আরব আমিরাত। বিনা উইকেটে ৪৯ থেকে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৮ রান।
২১তম ওভারের শেষ বলে ক্রিজে আসেন শাইমান আনোয়ার। পঞ্চম উইকেটে খুররম খানের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। খুররমের বিদায়ের পর রোহান মোস্তফা তাকে দ্রুত অনুসরণ করলে আবার চাপে পড়ে আরব আমিরাত।
১৩১ রানে ছয় উইকেট হারানো আরব আমিরাত লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে আনোয়ার ও জাভেদের রেকর্ড জুটির সৌজন্য। বিশ্বকাপে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন এই দুই জনে।
আনোয়ার-জাভেদের ১০৭ রানের জুটি ভাঙার কৃতিত্ব ম্যাক্স সরেনসেনের।
সপ্তম উইকেটে বিশ্বকাপে আগের সর্বোচ্চ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিডলি জ্যাকবস ও রামনরেশ সারওয়ানের। ২০০৩ সালের আসরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৮ রানে জুটি গড়েছিলেন তারা।
জাভেদ ফিরে গেলেও দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন আনোয়ার। ৪৯তম ওভারে ফেরার আগে প্রথম ওয়ানডে শতকে পৌঁছান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৮৩ বলে খেলা তার ১০৬ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি গড়া ১০টি চার ও ১টি ছক্কায়।
আয়ারল্যান্ডের স্টার্লিং, কুসাক, সরেনসেন ও কেভিন দুটি করে উইকেট নেন।

ম্যাচ সেরা: গ্যারি উইলসন।

শেয়ার