সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন॥ চুড়ামনকাটিতে আ’লীগ নেতার অত্যাচারে ১১৬ হিন্দু পরিবার জিম্মি

hindu
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অত্যাচার ও চাঁদাবাজিতে ১১৬টি হিন্দু পরিবার জিম্মি হয়ে পড়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন, চাঁদাবাজি, মারপিট ও বাওড়ের মাছ লুট করছে স্থানীয় চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের মেম্বর গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত ও তার বাহিনী। নির্যাতনের শিকার সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের চার শতাধিক নারী পুরুষ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
চান্দুটিয়া মালোপাড়ার বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্থানীয় ঝাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের মেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত ও সবুজের নেতৃত্বে চান্দুটিয়া গ্রামের মালোদের ওপর অত্যাচার চলছে। তাদের অত্যাচারে জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের ১১৬টি হিন্দু পরিবার। সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে মাছ নিয়ে ঝাউদিয়া পৌঁছালে রবিন বিশ্বাস ও সঞ্জয় বিশ্বাসকে ধরে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী বাগানে আটকে মারপিট করে মেম্বর মোস্ত ও তার বাহিনী। এছাড়াও স্থানীয় বুকভরা বাওড় চান্দুটিয়া গ্রামের মালো সম্প্রদায়ের মানুষ ইজারা নিয়ে চাষ করছে। ওই বাওড়ের মাছ জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে মোস্ত বাহিনী। তাদের বাঁধা দিতে গেলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। একইসঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এমনকি মালো সম্প্রদায়ের মানুষকে ওই এলাকার রাস্তায় পেলে মারপিট ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার নং ১০১৭। মানববন্ধনে চান্দুটিয়া গ্রামের চার শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার রায় ও যোগেশ চন্দ্র দত্ত, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দত্ত, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি প্রসেনজিৎ ঠাকুর প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত’র মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার