রেওয়াজ ভেঙ্গে হরতাল অবরোধের মধ্যে আদালতে গেলেন যশোরের আইনজীবীরা

Adalot mamla
লাবুয়াল হক রিপন॥
দীর্ঘ তিনদশকের রেওয়াজ ভেঙ্গে মঙ্গলবার থেকে হরতালের দিনেই যশোর আদালতে মামলা পরিচালনা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন আইনজীবীরা। টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এ প্রথার অবসান ঘটানো হয়েছে। এতে বিচার প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি থেকে ২০ দলীয় জোট দেশব্যাপী টানা অবরোধের সাথে দফায় দফায় হরতাল আহবান করে। এসময় যশোর আদালতে বিচার কার্যক্রমে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন আইনজীবীরা। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হন বিচার প্রার্থীরা। আবার জেলখানায়ও আসামির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এবিষয়টি অনুধাবন করে আইনজীবীরা হরতালের দিনেও মামলার পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা সাধারণ সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হন। বিচার প্রার্থীদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তিন দশকের রেওয়াজ বাতিল করে মঙ্গলবার আদালতে যান আইনজীবীরা। সারাদেশে হরতালের দিনে আদালতের কার্যক্রম চললেও যশোর ছিল ব্যতিক্রম।
দীর্ঘদিন আইনজীবীরা আদালতে না আসায় যশোর শহরের নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়ার জাহিদ হাসান, অভয়নগরের শুভরাড়ার কাজী নাজমুল হোসেন এবং নড়াইল জেলার লোহাগড়ার গালিবসহ আরও অনেকে পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে আটক ছিল। তাদের অপরাধ জামিনযোগ্য হলেও আইনজীবীরা আদালতে আইনি সহয়তা না দেয়ায় চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। একইসাথে আইনজীবীরা আদালতে আইনি সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাজমিলুর রহমান সরদার বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য তিন দশকের রেওয়াজ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দিনদিন মামলার জট বেড়ে গেছে। আদালতে আইনজীবীরা আইনি সহয়তা দেয়ায় জট কমবে।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি সাধারণ সম্পাদক আবু মোত্তর্জা ছোট বলেন, ১৯৮৬ সালে হরতালকারীরা আদালতের সামনে ও আইনজীবীদের অফিসে বোমা হামলা চালিয়ে ছিল। তারপরে সমিতির সভায় হরতালের দিনে আদালতে আইনজীবীদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই থেকে হরতালের দিনে আদালতে আইনি সহয়তা দোয়া বন্ধ ছিল আইনজীবীদের। সাধারণ সভায় উপস্থিত আইনজীবীদের সিদ্ধান্তে তিন দশকের রেওয়াজ ভেঙ্গে মঙ্গলবার থেকে আদালতে আইনি সহয়তা দেয়ার জন্য যান আইনজীবীরা।

শেয়ার