যশোরে দিনদুপুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা ॥ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে জেলা আ’লীগের মিছিল, আটক নেই

charman
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেনকে (৫৮) দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার সিনজেনটা অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোশারফ ইছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কিসমত রাজাপুর গ্রামের মোকাম মন্ডলের ছেলে। তিনি শহরের পুরাতন কসবা কাঁঠালতলা এলাকায় বসবাস করতেন। এহত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
কিসমত রাজাপুর গ্রামের সামসুল ইসলাম জানান, মোশারফ হোসেন শহরের পুরাতন কসবা কাঁঠালতলার বাড়ি থেকে পরিষদের কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে নিজের ব্যবহৃত ইয়ামাহা আরএক্স মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের সিনজেন্টা কীটনাশক ওষুধ কারখানার কাছে পৌঁছানো মাত্র অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে একটি গুলি ছোঁড়ে। গুলিটি তার বাম কোমরে লেগে মাটিতে পড়ে যান। এরপর ওই সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এসময় সামসুল ইসলাম ওই পথে যাচ্ছিলেন। চেয়ারম্যানকে দেখে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মোশারফ হোসেনের কোমরে গুলি, মুখের নিচে এবং পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীরা আঘাত করেছে বলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক হোসেন সাখাওয়াত জানিয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তার স্বামী বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর তিনি লোক মুখে শুনতে পান যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাঁচবাড়িয়া এলাকায় সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। ফেরদৌসি বেগম আরও বলেন, তার স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। তিনি সব সময় মানুষের উপকার করেছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জনগণের সেবা করতেন। সেই মানুষটাকে মেরে ফেলা হলো। তিনি আর কারো উপকার করতে পারবেন না। এই বলে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
এব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হক বলেন, ইছালী ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেনকে গুলি এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করা হয়েছে। এঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন সেট এবং জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
এঘটনার প্রতিবাদে দুপুর একটার দিকে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের হত্যাকারীদের আটক ও বিচার দাবিতে শহরে মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক খয়রাত হোসেন, জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি আব্দুল মতলেব বাবু, জেলা যুবলীগ নেতা ফন্টু চাকলাদার, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাজাহান কবির শিবলু প্রমুখ।

শেয়ার