মান্না ১০ দিনের রিমান্ডে

file89657
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সেনা বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার মামলায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার তাকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে গুলশান থানার সহকারী পরিদর্শক আব্দুল বারিক ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান তা মঞ্জুর করেন।

এ সময় মান্নার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন।

আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মান্না বলেন, “পেট্রোল বোমার বিপক্ষে আমি কথা বলেছি। আমি বলেছি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন হওয়া উচিত, নাশকতা হওয়া উচিত না।”
সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা হয়নি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না বলেন, “আমি যে কনভারসেশন করেছি তা লাইন টু লাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সামরিক বাহিনীর কারো সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি।”

ফাঁস হওয়া টেলিফোন কথোপকথনে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে আলাপচারিতায় সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলা নিয়ে মান্নাকে কথা বলতে শোনা গেছে।
এ বিষয়ে আদালতে মান্না বলেন, “কনভারসেশনে আমি বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের কথা। লাশ ফেলার কথা বলিনি।”
আদালতে মান্নার রিমান্ড আবেদন বাতিল ও তার জামিন আবেদনের পক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মহসিন মিয়া এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান শুনানিতে অংশ নেন। সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন মান্নান।
চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপের অন্যতম উদ্যোক্তা মান্নার সঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির টেলিফোনে কথা বলার দুটি অডিও ক্লিপ রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে আসে।
এতে মান্নাকে চলমান পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের উদ্যোগে আগ্রহ প্রকাশ করতে শোনা যায়। পাশাপাশি বিএনপি জোটের আন্দোলন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলার কথা বলতে শোনা যায় তাকে।
ওই অডিও টেপের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পর সারা দেশে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ চাওয়ায় মান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এরইমধ্যে মঙ্গলবার ভোররাতে বনানীতে তার ভাইয়ের বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মান্নাকে তুলে নেওয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও আটকের ২১ ঘণ্টা পর এই রাজনীতিবিদকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। সেখান থেকে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ফৌজদারি দন্ডবিধির ১৩১ ধারায় মান্নার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে, যাতে সশস্ত্র বাহিনীকে বিদ্রোহের উসকানি দেওয়া অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার গুলশান থানার এসআই সোহেল রানার দায়ের করা এ মামলায় মান্নার সঙ্গে টেলিফোন আলাপে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় সেই ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
অডিও টেপে ওই ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় মান্নাকে।
ওই ব্যক্তি কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার আগ্রহ দেখালে মান্নাকে বলতে শোনা যায়, “জুনিয়র সিনিয়রতো একটা ব্যাপার আছে। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে ইফেক্টিভ যারা। অ্যান্ড হু আন্ডারস্ট্যান্ড, হু নো, এ রকম হলে ভালো।
“মানে যার সাথে শেয়ার করা যাবে, যিনি আমাকে এনলাইটেন করতে পারবেন এবং মে বি আমিও তাকে বুঝতে পারব, বোঝাতে পারব।”
বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে ডাকসুর দুই বারের নির্বাচিত ভিপি মান্না আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে কর্মীদের রোষের মুখে পড়েছিলেন।
মান্নাকে আটকের খবরে বুধবার বিএনপির প্যাডে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ক্ষোভ জানিয়ে অবিলম্বে তাকে পরিবারের কাছে ফেরত দিতে সরকারকে আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, মান্না বিএনপির সঙ্গে যোগসাজশ করে অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র করছিলেন।
সশস্ত্র বাহিনীতে বিদ্রোহ সংঘটনে কেউ উসকানি দিলে বা এ ধরনের কোনো কর্মকর্তা, নাবিক বা এয়ারম্যানকে তার আনুগত্য বা দায়িত্ব থেকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করলে তার শাস্তির জন্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ বিষয়ক দন্ডবিধির সপ্তম অনুচ্ছেদের ১৩১ ধারা প্রযোজ্য হয়।
এই ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।

শেয়ার