বন্ধু-বিচ্ছেদের শঙ্কায় আত্মঘাতী ৫ কিশোরী!

attohotta

সমাজের কথা ডেস্ক॥

সামাজিক অসহিষ্ণুতার কারণে বান্ধবীদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে যাবে- এমন আশঙ্কা থেকে বিষ খেয়ে আত্মহনন করলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ কিশোরী। আরেকজনও তাদের সঙ্গে পরপারের যাত্রী হতে চেয়েছিলো, কিন্তু সে থেকে গেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের জামবনির ওরো গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

গ্রামের একটি নির্জন মাঠে ছয় কিশোরী বিষ খাওয়ার পর পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়, অপরজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে এখন ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্ধুত্ব-বিচ্ছেদের আশঙ্কা থেকেই একসঙ্গে মরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই কিশোরীরা।

কিন্তু বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকবে কেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরীদের সামনে আসলে প্রধান বাধা ছিল সমাজের চরম অসহিষ্ণুতা। এই অসহিষ্ণুতাই তাদের বিচ্ছেদের শঙ্কায় ভুগিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্ছল এই ছয় বান্ধবীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভাল চোখে দেখতো না গ্রামবাসী। সবার মধ্যেই তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে ইর্ষা-হিংসা কাজ করতো, এমনকি কীভাবে তাদের সম্পর্কে ছেদ ধরানো যায় সে কূটচাল দেওয়ার চেষ্টা চলতো। এরমধ্যেই এক কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়, বিয়ের কথা ওঠে আরেক কিশোরীরও। ছয়জনই নীরবে অশ্রু ঝরাতে থাকে।

কিন্তু কারও পরিবারের লোকজনই বোঝার চেষ্টা করেনি- বন্ধুত্বে অটুট এই ছয় কিশোরীর মনের কথা, যাদের কাছে বিয়ের চেয়েও বন্ধুত্ব অনেক প্রিয়, অনেক গভীরের সম্পর্ক বলে মনে হতো।

কেউ বোঝার চেষ্টা করেনি বলেই কৈশোরের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পরপারে পাড়ি জমালো পাঁচ কিশোরী। কিন্তু তাদের এই অস্বাভাবিক পরপার যাত্রা কি ধিক্কার দিয়ে গেল না সমাজের চরম অসহিষ্ণুতাকে?

শেয়ার