লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে কথা ও কাজের সাথে মিল নেই ॥ যশোরে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

national life insurence

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির যশোরের গ্রাহকরা পেনশন ডিপোজিটের লভ্যাংশ নিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় দ্বিগুণ লাভ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাসিক প্রিমিয়াম জমা নিয়ে মেয়াদ শেষে লভ্যাংশ বলতে গেলে দিচ্ছেই না। প্রতারিত গ্রাহকরা এ অভিযোগ করেছেন।
গ্রাহকরা জানান, বেশি লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে যা দেয়া হচ্ছে তা না দেয়ারই শামিল। আর এটা নিঃসন্দেহে একটি প্রতারণা। তারা আরো অভিযোগ করেছেন, মেয়াদ পূর্তির পর ২২ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু কবে নাগাদ টাকা পাওয়া যাবে তার সঠিক জবাব মিলছে না।
যশোর শহরের বারান্দিপাড়ার সুষ্মিতা দৌলা জানান, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির যশোর অফিসের লোকজন তাকে এই বলে উদ্বুদ্ধ করে যে, ১০ বছর মেয়াদি একটি পেনশন ডিপোজিট হিসাব খোলা হলে মেয়াদ শেষে প্রায় দ্বিগুণ লাভ পাওয়া যাবে। এতে তিনি উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০০৪ সালে একটি পেনশন ডিপোজিট হিসাব খোলেন। প্রিমিয়াম প্রতি মাসে তিনি ৩০০ টাকা হিসেবে ১২০ কিস্তিতে ৩৬ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এই হিসাবটির মেয়াদ পুরেছে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর। মেয়াদ শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তার সর্বসাকুল্যে পাওনা হয়েছে ৪০ হাজার ২৮০ টাকা।
তিনি জানান, ১০ বছর ধরে টাকা জমা দিয়ে লভ্যাংশ মাত্র চার হাজার ২৮০ টাকা কত হারে কি হিসাবে দেয়া হচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না।
একই বছর হিসাব খোলেন জাহিদ আহমেদ লিটন (পলিসি নম্বর ০০০৩৫০০৫৯৭) ও মঈনুল হক (পলিসি নম্বর ০০০৩৫০০৮৭৯৮) এমন ধরণের অভিযোগ করেছেন। তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের লভ্যাংশ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির যশোর অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম জানান, এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাই নিয়মের মধ্যে থেকেই সবকিছু করতে হয়। নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। পলিসি খোলার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন তারা যদি নিয়ম নীতির বাইরে কিছু বলে থাকেন, তাহলে তাদের কিছুই করার নেই।

শেয়ার