স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম জয়

Ali
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দুই সহ-আয়োজকের কাছে লজ্জাজনক হারে বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। তবে মইন আলির ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। স্কটল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।
৩০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডে সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ১৭২ রান। আরো বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগালেও পরের ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় কোনোমতে তিনশ’ পার হয় তারা।
কাইল কোয়েটজার ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় লক্ষ্যের ধারে কাছে যেতে পারেনি স্কটল্যান্ড।
মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩০৩ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ৪২ ওভার ২ বলে ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় স্কটল্যান্ড।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্কটল্যান্ডের। এক প্রান্তে কোয়েটজার অবিচল থাকলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা।
কোয়েটজার ছাড়া স্কটল্যান্ডের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।
চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক প্রেস্টন মমসেনের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন কোয়েটজার। মমসেনকে ফিরিয়ে জো রুট ১৩.৩ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙার পর আর কোনো জুটি গড়তে পারেনি সহযোগী দেশটি।
শেষ দিকে ম্যাথু ক্রস (২৩) ও মাজিদ হক (১৫) দলকে দুইশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান।
ইংল্যান্ডের স্টিভেন ফিন ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন জেমস অ্যান্ডারসন, ক্রিস ওকস ও মইন।
মইনের প্রথম শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৭১ রান করেন কোয়েটজার। তার ৮৪ বলের ইনিংসটি ১১টি চার সমৃদ্ধ।

এর আগে ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেন ইয়ান বেল ও মইন। ১৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন এই দুই জন। বেলের বিদায়ে ভাঙে তাদের ৩০.১ ওভার স্থায়ী এই জুটি।

বিশ্বকাপে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা উদ্বোধনী জুটি। আগের সর্বোচ্চ ছিল ড্যানিশ অ্যামিস ও ব্যারি উডের। ১৯৭৫ এর আসরে পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫৮ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা।

অর্ধশতক করে বেল বিদায় নিলেও শতকে পৌঁছান মইন। নিউ জিল্যান্ডে ২৭ বছর পর শতক পেলেন ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যান। দলকে দুইশ’ রানে পৌঁছে দিয়ে ফিরে যান মইনও।

১০৭ বলে খেলা ম্যাচ সেরা মইনের ১২৮ রানের চমৎকার ইনিংসটি ১২টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো। এটি তার দ্বিতীয় শতক। তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ১১৯।

মইনের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান গ্যারি ব্যালান্স ও রুট। ৩ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়া ইংল্যান্ড তিনশ’ ছাড়ায় অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যানের দৃঢ়তায়।

জেমস টেইলরের সঙ্গে ৪৯ ও জস বাটলারের সঙ্গে ৪৫ রানের দুটি কার্যকর জুটি গড়েন ছন্দে ফেরার লড়াইয়ে থাকা মর্গ্যান। শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়ার আগে ৪২ বলে ৪৬ রান করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

পরের বলে ওকসকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান জস ডেভি। তবে স্টুয়ার্ট ব্রড নেমে হ্যাটট্রিক ঠেকান।

৬৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ডেভিই স্কটল্যান্ডের সেরা বোলার।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১১১ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হারে ইংল্যান্ড। স্কটল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৩ উইকেটে হারে।

উইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ের এগিয়ে যাওয়ার লড়াই

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে এক বৃত্তে দাঁড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। শেষ ম্যাচের জয় স্বস্তি হয়ে এসেছে দুই শিবিরেই। মুখোমুখি লড়াইয়ে জিতে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী করার সুযোগ তাদের সামনে।
মঙ্গলবার ক্যানবেরার ম্যানুকা ওভালে মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে ও দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় খেলা শুরু হবে।

আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বাজে ভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়ায় পরের ম্যাচেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেড়শ’ রানের বড় জয়ে এখন দারুণ উজ্জ্বীবিত জ্যাসন হোল্ডারের দল।

হঠাৎ করেই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন ক্রিস গেইল। শুরুতেই ফিরে গিয়ে দলকে চাপে ফেলছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। নিজের ছায়া হয়ে আছেন আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডোয়াইন স্মিথ।

দলের দুর্ভাবনা আরো বাড়িয়েছে ড্যারেন ব্র্যাভোর চোট। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলবেন না এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

শুরুটা ভালো না হলেও শেষটা দারুণ হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আগের দুই ম্যাচেই শেষ ১০ ওভারে একশ’ রানের বেশি সংগ্রহ করে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে তারা। দুই ম্যাচেই শেষ দিকে ঝড় তুলেন দুই অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামি ও আন্দ্রে রাসেল।

মিডলঅর্ডারে লেন্ডল সিমন্স, দিনেশ রামদিন ও মারলন স্যামুয়েলস নির্ভরতা দিচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে।

নতুন বলে জেরোম টেইলর পরীক্ষায় ফেলতে পারেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের। হোল্ডার, স্যামি, রাসেলের কাছ থেকে ভালো সহায়তা পাবেন এই পেসার।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে শুরুটা দারুণ হলেও শেষরক্ষা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। তবে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় তারা।

আয়ারল্যান্ডের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারের পর ‘বি’ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর লড়াইটা অনেক বেশি উন্মুক্ত। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ চারের লড়াইয়ে ভালো ভাবেই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়াইয়ের পুঁজি গড়তে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামসদের দিকে তাকিয়ে থাকবে জিম্বাবুয়ে।

নতুন বলে ভালো শুরু এনে দেয়ার সামর্থ্য আছে টেন্ডাই চাটারা ও টিনাশে পানিয়াঙ্গারার। এল্টন চিগুম্বুরার দলের সমস্যা পুরোনো বলে। শেষ দিকে প্রচুর রান দেন আফ্রিকার দলটির বোলাররা।

কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলতে হলে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে অন্তত একটি জয় পেতেই হবে তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে জিম্বাবুয়ের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় সুযোগটি আর হাতছাড়া করতে চায় না তারা।

গত দশ বছরে মাত্র দুবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। এটাই বলে দেয়, কাজটা কত কঠিন হতে যাচ্ছে ডেভ হোয়াটমোরের শিষ্যদের জন্য।

শেয়ার