যুদ্ধাপরাধ: জব্বারের রায় আজ

abdul jabbar

সমাজের কথা ডেস্ক॥ জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ‘পলাতক’ আব্দুল জব্বারের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় জানা যাবে মঙ্গলবার।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ছাড়াও ৩৬ জনকে হত্যা, ২০০ জনকে ধর্মান্তরিতকরণ, ৫৫৭টি বাড়িঘরে লুটপাট চালানো ও অগ্নিসংযোগের মতো পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার রায় ঘোষণার জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেয়।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর এটি হবে সপ্তদশ রায়।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতবছর ১৪ অগাস্ট পলাতক জব্বারের বিচার শুরু হয়।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে।

শুনানির শেষ দিন জব্বারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আবুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে সমাপনী যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম ও তাপস কান্তি বল।

জাহিদ ইমাম বলেন, অভিযুক্ত আব্দুল জব্বার মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন।

তিনি এসব অপরাধের জন্য জব্বারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান ট্রাইব্যুনালের কাছে।

আসামির পক্ষে আবুল হাসান বলেন, যেসব অভিযোগ প্রসিকিউশন এনেছে তাতে জব্বার কখনোই যুক্ত ছিলেন না। তবে তিনি ও তার পরিবার দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে আসামির পক্ষে কোনো সাক্ষী হাজির করা সম্ভব হয়নি।

পিরোজপুরের সাবেক সাংসদ জব্বারের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ২০১৪ সালের গত ১ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গত ১২ মে জব্বারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় এরপর নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। তাতেও তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় বিচারক তাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল জব্বারের শ্বশুর ছিলেন স্থানীয় মুসলীম লীগ নেতা। জব্বার নিজে ছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। জাতীয় পার্টির টিকিটে মঠবাড়িয়া থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ৮০ বছর বয়সী এই প্রকৌশলী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রবাসী।

শেয়ার