ফাঁস কথোপকথন: ‘জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী মান্না’

manna

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সংলাপ না করলে ওয়ান ইলেভেনের হুমকি দিয়ে আলোচিত রাজনীতিক মাহমুদুর রহমান মান্না সেনা হস্তক্ষেপে ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি অডিও ক্লিপের কথোপকথনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে টেলিফোন করে মান্না এই আগ্রহ প্রকাশ করেন, যে ব্যক্তি নিজেকে এক/এগারোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে দাবি করেন। সংলাপে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরাসরি অস্বীকার না করে মান্না বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ঠিক মনে করতে পারছি না।”

জাতীয় সংলাপের উদ্যোক্তাদের একজন মান্না সম্প্রতি ওয়ান ইলেভেন আসতে পারে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।

বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে ডাকসুর দুই বারের নির্বাচিত ভিপি মান্না আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে কর্মীদের রোষের মুখে পড়েছিলেন।

পরে আওয়ামী লীগের পদ হারিয়ে নাগরিক ঐক্য নামে সংগঠন গঠন করেন মান্না।

বিস্তারিত কথোপকথন :

অজ্ঞাত: জ্বি ভাইয়া শুনতে পাচ্ছেন এবার?

মান্না: আমিতো পাচ্ছি। আমি বলছি, তোমার এটাতে ভাইবার আছে না?

অজ্ঞাত: জ্বি জ্বি আছে ভাইয়া, ভাইবার আছে।

মান্না: তাহলেতো আমি ভাইবার থেকেই করেছি। তোমার ভাইবারেইতো যাবে?

অজ্ঞাত: হ্যাঁ জ্বি, বলেন ভাইয়া

মান্না: আছো কেমন তুমি?

অজ্ঞাত: জ্বি আমি ভালো আছি। আপনার শরীর কেমন ভাইয়া?

মান্না: আমি ভালো আছি, থ্যাংক ইউ।

অজ্ঞাত: জি বলেন ভাইয়া, কি খবর?

মান্না: খবর তোৃদেশের খবরৃযেকোনো দিকে যাচ্ছেৃরিলেটিভলি পাবলিকের সাপোর্টের দিকে বিএনপি এগিয়ে আছে। কিন্তু এগোচ্ছে না কোনোদিকে।

অজ্ঞাত: মেরুকরণ দিতে পারছেন নাতো ভাইয়া।

মান্না: হ্যাঁ সেটা পারবেও না বোধ হয়।

অজ্ঞাত: পারবেও না। বাট ওই যে, ওইদিকে কিন্তু উত্তরপাড়া কিন্তু গরম হচ্ছে।

মান্না: আর কি গরম, আর কবে হবে? যা হয়ে গেছে দেশে এর চেয়ে বেশি তো কিছু আর হতে পারবে না।

অজ্ঞাত: সাপোর্টটা ছিলো না যে।

মান্না: না… এখনতো আছেই।

অজ্ঞাত: এখন মনে হয়, একটা দিকেৃ.. আপনার সাথে যোগাযোগগুলো আছে, না ভাইয়া?

মান্না: না আমার সাথেতো কারো কোনো যোগাযোগ নেই।

অজ্ঞাত: উড ইউ লাইক টু?

মান্না: হু?

অজ্ঞাত: উড ইউ লাইক টু? ডু ইউ ওয়ান্ট মি টু কল ইউ?

মান্না: আমারতো অন্তত বুঝতে হবে বিষয়টা না? বুঝতে তো হবে… সেটাতো আমি চাই।

অজ্ঞাত: এখন আপনি যদি কথাবার্তা না বলেন তাহলে কিভাবে বুঝবেন ভাইয়া? কথাবার্তা বলে আপনার কিছু, একটা তাদের কিছু একটাৃ দেখেন। ইউ হ্যাভ সিন দ্য ওয়ার্ল্ড। ইউ হ্যাভ সিন… সবার সব কিছু দেখছেন। আমি আপনার অনেক ছোট। বাট দেশে পরিবর্তন আনতে চাইলে আপনার আমার মনে হয়, কথা বলা দরকার। উনারাই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। যদি আপনি বলেনৃ.

মান্না: হ্যাঁ, করলেতো আমি বলবো।

অজ্ঞাত: ওকে ঠিক আছে। আমি তাহলে আপনাকে একজনকে দিয়ে কল করাবো। আপনাকে জিওসি লেভেলে কল করাবো? না আরেকটু সিনিয়র?

মান্না: বুঝি নাই, কথাটা শুনতে পাই নাই।

অজ্ঞাত: বলছি, জিওসি লেভেল থেকে কল করাবো দুইচার-পাঁচদিনের মধ্যে, না আপনার, আরেকটু সিনিয়র কাউকে দিয়ে করাবো?

মান্না: জুনিয়র সিনিয়রতো একটা ব্যাপার আছে।তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে ইফেক্টিভ যারা। অ্যান্ড হু আন্ডারস্ট্যান্ড হু নো, এ রকম হলে ভালো। মানে যার সাথে শেয়ার করা যাবে, যিনি আমাকে এনলাইটেন করতে পারবেন এবং মে বি আমিও তাকে বুঝতে পারবো, বোঝাতে পারবো।

অজ্ঞাত: আচ্ছা ঠিক আছে ভাইয়া।

মান্না: আর এটাতো মানে সবাই সবাইকে বলতেও চায় না। সে রকমও হতে হবে।

অজ্ঞাত: ভাইয়া, আমার সমন্ধে তো নাম-বদনাম অনেক কিছু শুনেছেন। তারপরও ম্যান অব ইওর স্ট্যাচার হ্যাজ গিভেন মি কল, আপনি আমাকে ট্রাস্ট করেছেন, ফার্স্ট অফ অল আই লাইক টু থ্যাংক ইউ ফর দ্যাট। আমার সঙ্গে আপনার কখনো দেখা হয়নি কখনো। ইনশাল্লাহ আপনাকে একজন কল করবে। হি ইজ নট সার্ভিং। মানে রিটায়ার্ড। কিন্তু এখানে দুইজন সার্ভিং থাকবে, আপনার সাথে কথা বলার জন্য।

অজ্ঞাত: এবং সার্ভিং দে আরৃ একজন উইল বি ইনটেনডেড লেফটেনেন্ট জেনারেল। আর আরেকজন অলরেডি লেফটেনেন্ট জেনারেল। আপনি কথা বলে দেখেন, আপনি কি চান, কি শেয়ার করেন ওনাদের সাথে। তারপর দেখেন কোথায় যায়।

অজ্ঞাত: তবে ভাইয়া ইউ মাস্ট টেক সাম স্টেপস। ওনাদের গৎবাঁধা বিএনপি-টিএনপি এগুলো দিয়ে কিছু হবে না ভাইয়া।

মান্না: এখন তুমি যার কথা বললে, উনি কি তোমার ওই এলাকার দিকে ছিলেন?

অজ্ঞাত: আপনি আরেকবার বুঝিয়ে বলেন দেখি

মান্না: মানে তুমি এখন যেখানে আছ বা মাঝে মাঝে যাও-আসো, ওরকম কোনো জায়গাতে ছিলেন তিনি? বা আছেন?

অজ্ঞাত: অস্ট্রেলিয়াতে তিনি ছিলেন ওই ভাইয়াটা, আপনাকে বলছিলাম নাম। উনিতো থাকবেনই। আর উনার সাথে একদম এখন যারা সার্ভিং আছেন, দুইজন জিএসও থাকলো প্রেজেন্ট একসাথে। প্রয়োজনে ওনারা ওখান থেকে আপনার সাথে চিফের সাথে কথা বলিয়ে দেবে।

আর তারপর দরকার হলে আপনার সাথে চিফের সাথে কথা বলিয়ে দিলে… কোনো অসুবিধা নেই।

মান্না: আচ্ছা।

অজ্ঞাত: দিজ আর দ্য গাইস দেট আই ট্রাস্ট ভাইয়া, দে আর বি-ইং মাই এল্ডার ব্রাদার ফর লং টাইম। ওয়ান ইলেভেন গতবারের একটা পর্যন্ত ব্যারাক থেকে বের হওয়ার ব্যপারে আমি সাহায্য করেছিলাম। বাট রুমী ভাই মাইৃ. মঈন সাহেবের মধ্যে একটু ডিফারেন্স হয়ে গেলো

… আর ওখানে বারী সাহেবের সাথে আমার ডাইরেক্ট একটা কনফ্লিক্ট ছিল। ওই সময়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমার দুইবার সার্জারি হলো অ্যান্ড ওই সময়ে আমার ওইসব ঘটনাতে আপনার জিনিসটা..গেমটা অন্য দিকে চলে গেলো। বাট ইট উড বি অ্যা ডিফরেন্ট স্টোরি অল টুগেদার।

এদের সাথে আমার সম্পর্কটা ডাইরেক্ট ছোট ভাই বড় ভাই। আমার সাথে কোনো লেনদেন, কোনো ধরনের কোনা সম্পর্ক নাই। এরা দেশে পরিবর্তন আনতে চায়, চেষ্টা করতে চায়। একটা সময়ে তো ধরেন আমি পাশের দেশে, এদেশে-ওদেশে, অনেক দেশেই ইউজ হয়েছি। অনেক কিছু, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, পাহাড় থেকে নিয়ে সব জায়গায় আমি কাজ করেছি। এদের একটা রং ধারণা ছিলো আমার সাথে।

তখন একদিন আমাকে একটা ব্যাপারে আমার দুইটা ছেলে বলছে… আমি বল্লাম দেখেন, যখন বর্ডারে আপনারা কিছু করেন… তখন নেক্সট ডে মর্নিংয়ে পেপারে আসে, ইউ আর ন্যাশনাল হিরো। সেম আমিও একটা প্যারালাল গভর্নমেন্ট চালানোর চেষ্টা করেছিলাম, অনেক বছর ধরে। অন্তত কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডকে একটা ছাতির নিচে আমি নিয়ে আসছিলাম। ধরে রাখতে পারিনি হয়তো, আমার পারদর্শিতা, দূরদর্শিতার অভাবে। বাট আই ট্রাইড।

অজ্ঞাত: এবং তখনি আমি ৪০-৫০টা এমপি নিয়ে আমি অনেক কিছু ম্যানিপুলেট করছি। আমি তাদের নমিনেশন থেকে নিয়ে সব ব্যবস্থা করেছি। আমি কিছু করলে নেক্সট ডে আসে অ্যান্টি সোশাল… আর আপনারা কিছু করলে বা র্যর‌্যাবের একটা অফিসার কিছু করলে নেক্সট ডে ইট কামস অ্যাস এ হিরো ইন নিউজপেপার।

অজ্ঞাত: বাট আপনাদের ভিশন ক্লিয়ার থাকতে হবে। ইউ সি হোয়াট আই ডিড। ইফ ইউ লাইক ইট, ইউ ক্যান গো অ্যালন। আপনারা আমাকে ইউটিলাইজ করেন, দেশের পারপাসে। বাট অন্য কোনো পারপাসে না। আই এম নট দেয়ার ফর মানি। হোয়াট এভার আল্লাহ হেজ গিভেন মি…আই ক্যান সারভাইভ অন দ্যাট। তারপর থেকে একটা রিলেশনশিপ গ্রো হইছে।

অজ্ঞাত: এখন ইনশাল্লাহ রানিং ১৯ জনের মধ্যে ১২ জনের সঙ্গে আমি সরাসরি কথা বলি আপনার দোয়ায়। অ্যাটলিস্ট ইউ ক্যান টক টু দেম। লেট সি, আপনি কথা বললে ক্লিয়ার হবে।

মান্না: ওকে।

অজ্ঞাত: তাহলে উইথ ইউর পারমিশন, আই উইল গিভৃতাহলে আমি নাম্বার দিয়ে দিব আপনাকে। দিলে আপনি কথাবার্তা বলেন ওনাকে। ইউ উইল রিসিভ এ কল টুমোরো বাই টুয়েলভ। ঠিক আছে ভাইয়া?

অজ্ঞাত: একটা রেস্টুরেন্ট-টেস্টেুরেন্টে গিয়ে কথা বললেন। ওনাদের কোনো কনফিডেন্সিয়াল জায়গায় গেলেন, কথা বললেন বা আপনি কোথাও ডাকলেন, সেখানে আসলো।

মান্না: কল দিতে হবে? ফোন ভয় পাই।

অজ্ঞাত: জ্বি জ্বি আপনাকে তাহলে, ভাইবারেই আপনাকে আমি যেখানে থাকি, এখানকার একটা নাম্বার, অস্ট্রেলিয়ার একটা নাম্বার থেকে ভাইবারে কথা হবে। ঠিক আছে ভাইয়া?

মান্না: ওকে।

অজ্ঞাত: তাহলে ইনশাল্লাহ কথা হোক, দেখেন আপনি কতদূর আগায়। আর ভাইয়া, পাশের দেশের সাথে কিন্তু আপনার একটা যোগাযোগ মনে হয় আছে, ওটা কতটুকু রাখছেন ধরে, ভাইয়া ওটা।

মান্না: ওইটা খুব সলিড কিছু না। ওইদিক থেকে এসছিলো, আই হ্যাভ লিসেন টু দেম। উই হ্যাভ টক, দোজ আর অ্যাকাডেমিকস।

অজ্ঞাত: অ্যাকাডেমিক?

মান্না: ইয়াহ, পলিটিকাল অ্যাকাডেমিকস।

মান্না: কিন্তু একটা জিনিস হয়েছে, আমি বলেছিলাম, দ্য ওয়ে ইট ইজ বিয়িং এডমিনিস্টার্ড, ইট ইজ বিয়িং রান, ফান্ডামেন্টালিস্ট অ্যান্ড এই টাইপের এরা, দে উইল সারফেস, দে উইল গেইন মোর স্ট্রেন্থ, ইউ উইল সি। বিকজ যে রকম করে আপনারা আন রিজার্ভড সাপোর্ট দিচ্ছেন এটা এই দিকেই যাবে। তখন তারা মানে নাই। কিন্তু পরের দিকে তাদের মনে হয়েছে ইয়েস এই কথাটাতো ঠিক। এইটুকুই তাদের অ্যাপ্রিসিয়েশন আছে।

অজ্ঞাত: আমাকে গত চারদিন আগে হঠাৎ করে ইন্দোনেশিয়ায় ডাকছিলো। তো আমি গেলাম ওখানে। অনেকদিন পরে, মানে এখন যে সরকার ওখানে পাওয়ারে না, তাদের সঙ্গে আমার একটা পার্সোনাল সম্পর্ক ছিল, দুই তিন জনের সাথে। যখন আই টুক স্কলারশিপ ফ্রম ইন্ডিয়াৃহোয়েন আই স্টাডিয়িং অ্যাব্রড, আমি আমেরিকা গেলাম। কিন্তু আমিতো ইন্ডিয়া ছিলাম। তখন আমার কিছু বন্ধু ছিলো। তাদের বাবারাৃওনাদের মাধ্যমেই এদের সাথে সম্পর্কটা হইছে আরকি।

তো তখনতো বুঝতাম না। বাট স্লোলি আই…

শেয়ার