অভয়নগরে একদিনে কুকুরের কামড়ে ১৮ শিশুসহ ২০ জন জখম

kukur kamr
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি॥ অভয়নগরে একদিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৮ জন শিশুসহ ২০ জন মারাত্মক জখম হয়েছে। আহতদের মধ্যে রুবেল নামের এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ভ্যাকসিন সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত। বর্তমানে পাগলা কুকুর আতংকে গ্রামবাসী।
জানাগেছে, শনিবার সকালে নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোডের বাসিন্দা মিন্টু হাওলাদারের ১০ বছরের মেয়ে ফাতেমা খাতুন বাড়ির পার্শ্বে খেলা করার সময় লাল রং এর একটি পাগলা কুকুর তার ডান পায়ে কামড় দিয়ে মাংশ তুলে নেয়। এ সময় প্রতিবেশিরা ওই কুকুরটিকে ধাওয়া করে। নওয়াপাড়া কলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নওয়াপাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় নর্থ বেঙ্গল রোডের কাছে পৌছালে ওই কুকুরটি ৮শিশু শিক্ষার্থীকে কামড়িয়ে মারাত্ম জখম করে। তাদের আত্মচিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে আসলে কুকুরটি পালিয়ে যায়। পরে ওই কুকুরটি নওয়াপাড়া গরুহাটা ও গুয়াখোলা গ্রামের এক যুবকসহ ৯ শিশুকে কামড়িয়ে জখম করে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী আতংকিত হয়ে পড়েছে। আহতরা হচ্ছে নওয়াপাড়া গ্রামের ইসরাইলের ৮ বছরের ছেলে সোহান, শরিফুলের ১০ বছরের মেয়ে মাহিমা, ফারুক হোসেনের ৩ বছরের ছেলে রমজান, শহিদুলের ৯ বছরের ছেলে আলমগীর, আলী আহম্মেদের ৯ বছরের ছেলে তোহা, মিন্টু হাওলাদারের ১০ বছরের মেয়ে ফাতেমা, আবুল হোসেনের ৭ বছরের ছেলে ফরহাদ হোসেন, হাবিবের ৭ বছরের ছেলে রুবেল, নজরুল ইসলামের ৫ বছরের মেয়ে হালিমা,সালাম হাওলাদারের ৫ বছরের মেয়ে তাবাসুম, গাজী রানার ৯ বছরের ছেলে বিজন, সলেমান বিশ্বাসের ১২ বছরের ছেলে ফুহাদ,ধোপাদী সামাদ মোল্যার ৪ বছরের মেয়ে ইমা , শংকরপাশা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (২৬), বুইকরা গ্রামের মাহিন (৮) জবেদা বেগম (৩২) , চলিশিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে রুবেল (২) এবং শাহিনের ছেলে হাসান (২)। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মী সোভন শাহরিয়ার জানান, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কুকুরে কামড়ানো শিশুদেরকে হাসপাতালে তাদের স্বজনরা নিয়ে আসতে থাকে। তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়। আনেক শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে না পারায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে খুলনা ও যশোরে নিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা অমিত জানান, হাসপাতালে এই মূহুর্তে জলাতংকের কোন ভ্যাকসিন মজুদ নাই। তবে কুকুরে কামড়ানো শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ সময় হাসপাতালে স্বজনরা ভীড় করতে থাকে এবং ভ্যাকসিন না থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে নওয়াপাড়া পৌর মেয়র রবিউল হোসেন ও কাউন্সিলর রবিন অধিকারী ব্যাচা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আহতদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্র“তি দেন। আহতদের মধ্যে অধিকাংশ নওয়াপাড়া কলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

শেয়ার