পানি এলে ইলিশ যাবে

mom
সমাজের কথা ডেস্ক॥

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আরও বেশি করে পদ্মার ইলিশ পেতে চায়- রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এমন কথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উদ্দেশে বলেছেন, পানি এলে ইলিশ যাবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার বাসভবন গণভবনে মমতা দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। দু’জনের দীর্ঘ সাক্ষাতে দুই বাংলার মধ্যকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব আলোচনার মধ্যে অন্যতম ছিল তিস্তার পানিবণ্টন ও সীমান্ত চুক্তি বিষয়।

সাক্ষাৎকালে মমতাকে নৌকা উপহার দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যেন পর্যাপ্ত পানি থাকে, এ নৌকায় যেন চলতে পারি।

জবাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিস্তার পানিবণ্টনের ব্যাপারে তার ইতিবাচক ভূমিকা থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্থ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ সরবরাহ কমে যাচ্ছে। পদ্মার ইলিশ আরও বেশি করে পেতে চায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।

তার এই কথার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, পানি এলে ইলিশ যাবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন- আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ভারতের সংসদের (লোকসভা) অধিবেশনে সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হয়ে যাবে। একইসঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে তিনি সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন।

মমতা বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হলো সীমান্ত চুক্তি। আমাদের পক্ষ থেকে এ সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আশা করি আগামী ২৩ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া লোকসভার অধিবেশনেই এর সমাধান হয়ে যাবে। বিলটি লোকসভায় উত্থাপিত আছে, এখন পাস হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

তার এই আশ্বাস ও ভূমিকায় ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পর্কে মমতা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশ আমারও দেশ। বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। দু’দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবো সবসময়।

প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে এ বৈঠকের পর একান্তেও আলাপ সারেন প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাক্ষাতেও তিস্তা পানিবণ্টন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অমর একুশে পালনের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানোয় মমতা প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আপ্লুত, আমি ধন্য। মহান একুশের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

শেয়ার