পশুপালনের আড়ালে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ’

rab
সমাজের কথা ডেস্ক॥
চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়ক পূর্বদিকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সাধনপুর ইউনিয়নের লটমণি পাহাড়। দুর্গম পাহাড়ের ভেতরে টিনের ছাউনি দেয়া একটি লম্বা খামার। খামারের একটি ঘরে ভেড়ার পাল, পরেরটিতে মুরগি, আরেকটিতে গরু। সামনে ছোট্ট আরেকটি বাঁশের ঘরে রাখা হয়েছে হাঁস।

আপাতদৃষ্টিতে দেখলে সেটিকে মনে হবে একটি সাধারণ পশুপালনের খামার। কিন্তু খামারের চারদিক ঘিরে আছে ফায়ারিং রেঞ্জ, সম্মুখযুদ্ধের বাঙ্কার, সামরিক প্যারেড মাঠ। শনিবার র‌্যাব সদস্যরা ওই খামারের সন্ধান পাবার পর জানা গেল, সেখানে পশুপালনের নামে চলছিল জিহাদি ও সামরিক কায়দায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ।

ওই খামারের আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গর্ত খুঁড়ে সেখানে রক্ষিত ড্রামে পাওয়া যায় অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম। খামার থেকে আটক করা হয় পাঁচজনকে।

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদরদপ্তরের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন, খামার থেকে যেসব অস্ত্রশস্ত্র, আলামত উদ্ধার হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এখানে জঙ্গিরা গেরিলা যুদ্ধ এবং বিমান ছিনতাইয়ের প্রশিক্ষণ দিত।

তিনি বলেন,চট্টগ্রাম ব্যতীত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের কাজের কথা বলে খামারে আনা হত। তারপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর অত্যাচারের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হত। এরপর আল কায়েদা, আই এস, আল সাবাহ কিংবা ওসামা বিন লাদেন ও আইমান আল-জাওয়াহিরির মতো বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতাদের বক্তব্য এবং জঙ্গিদের বিভিন্ন সফল অপারেশনের ভিডিওচিত্র তাদের দেখানো হতো। এরপর শুরু হত প্রশিক্ষণ।

শেয়ার