উত্তর পাড়ায় তাকিয়ে লাভ নেই: খালেদাকে প্রধানমন্ত্রী

PM
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অবরোধ-হরতাল চালিয়ে অসাংবিধানিক কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় আনা এখন আর যাবে না বলে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “উনি(খালেদা জিয়া) উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে বসে আছেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। মনে করছেন, ওখান থেকে কেউ এসে ওনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।
“সংবিধান সংশোধন করে ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের আশায় বসে আছেন, তারাও জানে এভাবে ক্ষমতায় এলে তার পরিণতি কী হয়। জিয়া, এরশাদ, মইনুদ্দীন আর ফখরুদ্দীনের পরিণতি সবাই দেখেছে। ওই আগুনে কেউ পা দিতে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”
নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল দেড় মাস ধরে অবরোধ-হরতাল চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে রোববার রাজধানীতে এক সভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি, বিএনপি সেনাবাহিনী তথা অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনতেই এই আন্দোলন চালাচ্ছে।
হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় এই পর্যন্ত ১০০ মানুষ নিহত হলেও জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা নাকচ করে শেখ হাসিনা আগেই বলেছেন, নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।
চলমান পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা কেউ কেউ করলেও তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রয়েছে।
বাংলাদেশের ৪৪ বছরের ইতিহাসে বেশ কয়েকবারই ঢাকার এক সময়ের উত্তর প্রান্তে থাকা সেনানিবাস থেকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ হয়েছে, এই কারণে তা উত্তর পাড়া হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় সেনা হস্তক্ষেপের ইতিহাস এবং সে পথ বন্ধ করতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন।

সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে মারা যান। একইভাবে ক্ষমতা দখলকারী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন। দুর্নীতির মামলায় বেশ কয়েক বছর জেলও খাটতে হয়েছে তাকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বশেষ সেনা হস্তক্ষেপের ঘটনাট ২০০৭ সালের, তখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ এখন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। ওই সময়কার নিয়ন্ত্রণকর্তা তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদও রয়েছেন একই দেশে।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের সাড়া না পেয়ে বিদেশিদের দিকেও তাকিয়ে আছেন।

“বিজেপি নেতার কথা বলে ধোঁকাবাজি করেছে। দেশ ছেড়ে পরদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।”

রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতার অবসানে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে নাগরিক সমাজের যারা সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ওনারাও বসে আছেন, কিছু একটা টুপ করে পড়বে, আর পতাকা-টতাকা পাবেন।”

চলমান পরিস্থিতির অবসানে উদ্যোগী হয়ে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের’ পক্ষ থেকে ১৩ জনের কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ ধরে কারও নাম উল্লেখ না করে তাদের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

“আমরা ক্ষমতায় থাকতে কত তদবির.. কেবিনেট সেক্রেটারি হবে। তারপর, করেও দিলাম। এখন চাকরি যাওয়ার পর সুশীল হয়ে গেছেন। আমাদের সবক দিচ্ছেন।”

শেয়ার