চৌগাছায় মসজিদের সেক্রেটারি আশরাফ হত্যাকাণ্ড॥ প্রধান আসামি খাইরুলসহ অন্যরা চারদিনেও আটক হয়নি

hottakando 2
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের মসজিদের সেক্রেটারি আশরাফ হোসেন হত্যাকান্ডের চারদিন পার হলেও মূল আসামি খাইরুলসহ খুনিদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ আসামিরা অনেকটা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে থাকা আসামিরা মামলা প্রত্যাহারেও বাদী এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে আতংকে আছেন নিহতের পরিবার, মামলার বাদী এবং মসজিদ কমিটির সদস্যরা। এদিকে, আসামি গ্রেফতারে চৌগাছা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় লোকজন।
জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ফুলসারা মাঝেরপাড়া গ্রামে জামে মসজিদের উত্তর পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে মসজিদ কমিটি। এসময় একই গ্রামের মৃত সদর আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম এবং তার ছেলে লিখনসহ বেশ কিছু লোকজনে প্রাচীর নির্মাণের কাজে বাঁধা প্রদান করে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মসজিদের সেক্রেটারি আশরাফ হোসেন এগিয়ে এলে খাইরুল সাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। একই সাথে আহত হন তার সহযোগী আরো দুইজন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে খাইরুল ইসলামকে প্রধান করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মামলা করেন। স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় আসামিদের দু’জনকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়। তবে এ মামলার মূল আসামি খাইরুল এখনো ধঁরাছোয়ার বাইরে রয়েছে।
জানা গেছে, খাইরুলের ছেলে লিখন চৌগাছা উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সিরাজুল ইসলাম হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি। তারা এলাকায় খুনসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কিন্তু তারা চৌগাছা-ঝিকরগাছার একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় এসকল অপকর্ম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। আর তাদের আশীর্বাদপুষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের চাপের কারণে পুলিশ আসামি আটকে নানা গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফুলসারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর জিয়াউর রহমান জানান, কয়েকটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে নিহত আশরাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেনকে বিভিন্ন কায়দায় হুমকি দেয়া হচ্ছে।
নিহতের ছেলে ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, আসামিরা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন জনের সাথে বলছে ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে সবাইকে ছিনতাই, লুটতরাজসহ নানা ধরনের মামলায় চালান দেয়া।
ফলে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, এমামলার দুইজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু অন্যদের আটকের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার