সাতক্ষীরা হাসপাতালের ৩০টি নতুন বেড ঝিনাইদহে বিক্রির ঘটনায় তোলপাড়

Satkhira Sador Hospital
আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০টি নতুন বেড ঝিনাইদহ হাসপাতালে বিক্রির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. সালেহ আহমেদ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে এগুলো বিক্রি করেছেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি ব্যাপকভাবে ফাঁস হয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাতক্ষীরার সচেতনমহল। বিক্ষুব্ধরা এই দুর্নীতিবাজ সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দ্রুত বেডগুলো ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন। তবে ডা. সালেহ আহমেদ বলছেন অন্য কথা। তিনি বলছেন ঝিনাইদহের সিভিল সার্জনের রিকুইজিশন চিঠির প্রেক্ষিতে বেডগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি জানলেন না কেন ? ব্যবস্থাপনা কমিটির অধিকাংশরাই বলছেন তারা কিছুই জানেন না। একারণে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলেই মনে করছেন সচেতনমহল। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জেলা প্রশাসককে বলেছেন। দ্রুতই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্টোর বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্টোর থেকে ৩০টি বেড ঝিনাইদহ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি জানেন না সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কিংবা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির কেউ। গোপনে বেডগুলো প্রেরণ করলেও সম্প্রতি বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ ভর্তি রোগী থাকে। শয্যা সংকটে রোগীরা সীমাহীন কষ্ট পায় এখানে। সিভিল সার্জন অসৎ উপায়ে ৩০টি বেড গোপনে সরিয়ে ফেলবেন সেটা কখনো মেনে নেয়া যায় না। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আজই শুনলাম। আমাদের জানানো হয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, আমাদের বেড ঝিনাইদহা যাবে কেন? সাতক্ষীরার উপজেলা হাসপাতালগুলো আছে- মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে, সেখানে গেল না কেন? হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, তিনি আজই বিষয়টি শুনেছেন লোক মুখে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে জেলা প্রশাসককে ঘটনাটি তদন্ত করে বেডগুলো ফেরত আনা ও সিএস’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। এ ব্যাপারে বিএমএ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, বেডের অভাবে সাতক্ষীরার মানুষ হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতে ঘুমায়। আর সামান্য অর্থের বিনিময়ে সিভিল সার্জন ডা. সালেহ আহমেদ কিভাবে এই কাজটি করলেন আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। সাতক্ষীরা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আব্দুল বারী বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকে তখন সিএস এই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বেড সেখানে কিভাবে পাঠায়? প্রশ্ন করেন তিনি। এ ব্যাপারে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে সিভিল সার্জন ডা. সালেহ আহমেদ বলেন, ঝিনাইদাহ জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের রিকুইজিশন চিঠির প্রেক্ষিতে বেডগুলো সেখানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানো হয়নি, এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি। প্রসঙ্গত: সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বেডগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

শেয়ার