শিলা বৃষ্টিতে মসুরি ও গমের সর্বনাশ, ফুল ও ফল চাষীদের মাথায় হাত ॥ যশোরে ১৩ হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট ৩ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ১

shila bristi
সালমান হাসান॥
যশোরে ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষেতে থাকা মসুরি ও গমের সর্বনাশ হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফুল ও ফলের (আম)। বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৮ উপজেলায় বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট এবং প্রায় ৩ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বজ্রপাতে প্রাণহানি হয়েছে অভয়নগরের গৃববধূ মমতাজ বেগমের।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে মেঘাচ্ছন্ন হয় যশোর ও এর আশপাশের এলাকা। রাত সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হয় ভারিবর্ষণ। বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় দুই ঘন্টা ধরে চলে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ফের শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া ও শিলাসহ ভারি বর্ষণ। সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে শিলা বৃষ্টি। এতে যশোর সদর, শার্শা, মণিরামপুর, চৌগাছা, কেশবপুর, বাঘারপাড়া উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও নিকট অতীতে সবচেয়ে বেশি শিলা বৃষ্টি দেখে জনমনে আতংক দেখা দেয়।
যশোর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড়ো হওয়া ও শিলা বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালকের কার্যালয় সূত্র মতে, জেলার মধ্যে শার্শা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঝিকরগাছা, চৌগাছা, মণিরামপুর, সদর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া, উপজেলায়ও যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম অভয়নগর উপজেলায়। তবে অভয়নগরে বৃহস্পতিবার সকালে বজ্রপাতে মমতাজ বেগম নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার স্বামী ইউপি সদস্য মকর আলী। আর বুধবার রাতে ঝড়ের মধ্যে গাছ ভেঙ্গে মণিরামপুরে তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন মনোহরপুর গ্রামের রেশমা খাতুন, রতেœশাহপুর গ্রামের ইবাদুল ও সিরাজ। এদিকে, জেলার ৮ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টিন ও টালির ঘরের ছাউনি ফুটে হয়ে গেছে এবং ভেঙ্গে গেছে।
এদিকে, ঘরবাড়ির পাশাপাশি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যশোর জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী গোটা জেলার ১২ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মসুর ৭ হাজার ১৬৫ হেক্টর, সবজি ২ হাজার ৭৯১ হেক্টর, গম ১ হাজার ৫৫৬ হেক্টর, আলু ৩৮৪ হেক্টর, খেশারি ২৬৫ হেক্টর, ফুল ২০০ হেক্টর ও ৬৫ হেক্টর কলাক্ষেত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে আলুর ৩ শতাংশ, আম ৩৮০ হেক্টর, মরিচ ৫০ হেক্টর জমিতে, ভুট্টা ৩০ হেক্টর, ১০৮ হেক্টর জমির পান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার জানান, শার্শা উপজেলার উত্তরের ডিহি, নিজামপুর ও লক্ষণপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি শিলা বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার মাঠে থাকা মসুরি ও গম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার জানিয়েছেন, চালুহাটি ইউনিয়নের রতেœশ্বরপুর, লক্ষণপুর, রামনাথপুর, রাজগঞ্জ, চন্ডিপুর, হানুয়া, মনোহরপুর, মোবারকপুর, হরিহরনগর এলাকায় টিন ও টালির ঘর এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক নিত্য রঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন।

শেয়ার