যশোর হাসপাতালে সোয়াইন ফ্লু ইউনিটটি এখন স্টোর রুম॥ নষ্ট হয়ে গেছে আসবাবপত্র ও এসি ব্যবহার উপযোগী করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

Jessore hospitaljessore hospital
এস হাসমী সাজু॥
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের একমাত্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সোয়াইন ফ্লু ইউনিটটি বর্তমানে স্টোররুম ও ডায়রিয়ার মনিটরিং রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রুমটি দীর্ঘদিন স্টোর হিসেবে ব্যবহার করায় আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। আর মরিচা পড়ে অকেজো হয়েছে মূল্যবান এসি।
এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গত কয়েকদিন সোয়াইন ফ্লু ব্যাপক আকার ধারণ করায় যশোরসহ ৬৪টি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি হিসেবে সোয়াইন ফ্লু ইউনিট প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গত বুধবার হাসপাতালে এ নির্দেশনা পৌঁছেছে বলে সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা জানিয়েছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে প্রথম সোয়াইন ফ্লু রোগ ধরা পড়ে। তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসার জন্য সকল হাসপাতালে ৬ বেডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি ইউনিট খোলার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর ২০০৬ সালের শেষের দিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডের পার্শ্বে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ রুম বিশিষ্ট ৬ বেডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্লু ইউনিট করে ২০০৭ সালের টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র সংযোজন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করায় বর্তমানে এই ইউনিটের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে, গত কয়েকদিনযাবত ভারতে সোয়াইন ফ্লু রোগের বিস্তার লাভ করার কারণে বাংলাদেশ আগেভাগে ত্রি-বিষয়ে সতর্ক হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলা হাসপাতালে বিশেষ এই ইউনিট প্রস্তুত রাখতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নির্দেশ দিয়েছেন। যা গত বুধবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে এসেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, নির্দেশনাটি বুধবার হাতে পেয়েছি। তবে যশোরে গত ১ মাসযাবত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এই ইউনিটটি চিকিৎসকদের মনিটরিং রুম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত রোগী এলেই তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এতে রোগীদের কোন সমস্যা হবে না। তিনি আরও বলেন, পূর্বের তত্ত্বাবধায়ক সঠিকভাবে তদারকি না করায় বর্তমানে ‘ফ্লু’ ইউনিটের কিছু আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে।

শেয়ার