অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ম্যাচে বৃষ্টির চোখ রাঙানি

Australia
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপের ‘ফেভারিট’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে পরের ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করতে চায় বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টির চোখ রাঙানিতে ম্যাচ নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত হয়তো পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হতে পারে এই দুই দলকে।
শনিবার ব্রিসবেনের গ্যাবায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায়। সাইক্লোন ম্যার্সিয়ার প্রভাবে হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে এই ম্যাচ পন্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার প্রস্তুতি খুব একটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। বৃষ্টির কারণে গ্যাবার উইকেট সম্পর্কে ধারণা নেয়ার সুযোগ পাননি মাশরাফি বিন মুর্তজারা।
সেই হতাশা থাকলেও খেলতে চান মাশরাফি, “আমরা চাই, ম্যাচ হোক। ভালো খেলতে পারলে অন্যান্য বড় ম্যাচে কাজে লাগবে। গ্যাবায় ফেভারিটদের সঙ্গে খেলা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে।”
বিশ্বের অন্যতম দ্রুত উইকেটে খেলার সম্ভাবনায় রোমাঞ্চিত মাশরাফি। দলের কেবল সাকিব আল হাসানেরই গ্যাব্যায় খেলার অভিজ্ঞতা আছে। দেশসেরা পেসার জানান, সহ-অধিনায়কের কাছ থেকে গ্যাবার ব্যাপারে আরো জানবেন তারা।
“সাকিবের (গ্যাবায়) খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমরা জানি, বাউন্স থাকবে। আর আমাদের বিশ্বাস, আমরা মানিয়ে নিতে পারবো।”
গতি এখন কম হলেও অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের চার পেসারের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে মাশরাফি। দারুণ ছন্দে আছেন এই পেসার। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকেই।
মাশরাফি আশাবাদী, গ্যাবার উইকেটে ভালো করবেন রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারা এই পেসাররা পরীক্ষায় ফেলতে পারেন মাইকেল ক্লার্কদের।
পিচ দেখে দল ঠিক করবে বাংলাদেশ। কন্ডিশনের জন্য দলে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মাশরাফি। চতুর্থ পেসার হিসেবে দলে আসতে পারেন আল-আমিন হোসেন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যান আউট হয়েছিলেন উইকেটে থিতু হয়ে। তামিম ইকবাল, মাহমুদ্ল্লুাহরা সেট হতে পারলে তাদের কাছ থেকে বড় ইনিংসই চাইবে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে শুরুতে রানের গতি মন্থর ছিল, সাবধানী ছিলেন তামিম ও এনামুল। অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার মতো পুঁজি গড়তে শুরুতে আরেকটু দ্রুত রান দরকার হবে বাংলাদেশের।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে পারে তারা। এনামুল হক ও মুমিনুল হকের যে কোনো একজনকে বাদ পড়তে হতে পারে।
২০১১ সালের এপ্রিলে শেষবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সফর ছিল অধিনায়ক হিসেবে ক্লার্কের প্রথম।
পেস দিয়ে বাংলাদেশকে গুড়িয়ে দিতে চায় অস্ট্রেলিয়া। চার পেসার নিয়ে এই ম্যাচে খেলতে পারে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলটি। একাদশ ঠিক করে রেখেছে তারা। তবে বৃষ্টির কারণে, কম ওভারের ম্যাচ হলে একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক।
মিচেল জনসন, মিচেল স্ট্যার্ক, জস হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্সে গড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং আক্রমণ যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপ গুড়িয়ে দিতে পারে। তাদের ঠিকঠাক সামলে নিউ জিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে সামলানোর আত্মবিশ্বাস নিতে চায় বাংলাদেশ।
এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়া দলের একমাত্র তারই বাংলাদেশের কাছে হারের অভিজ্ঞতা আছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১৯ ম্যাচের ১৮টিতেই হারলেও, একমাত্র জয়ে অনুপ্রেরণা খুঁজছে বাংলাদেশ।
২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের বাংলাদেশ দলের একমাত্র মাশরাফি আছেন এবারের দলে।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছাড়াও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, স্টিভেন স্মিথ, শেন ওয়াটসনের যে কেউ বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

তাই একক কাউকে নিয়ে ভাবছে না চন্দিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। মাশরাফি বলেন, “ওদের দল নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এমন দুই-তিন জন আছে যারা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। সবাইকে নিয়েই আমাদের চিন্তা করতে হবে।”
নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারায় বাংলাদেশ। আর অস্ট্রেলিয়া ১১১ রানে হারায় ইংল্যান্ডকে।

শেয়ার