অমর একুশে আজ

ekushe februari
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মহান ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি পূরণের ৬৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে এই দিনে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালী জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা। রাষ্ট্রভাষার লড়াইয়ে সে দিন রাজপথ রঞ্জিত হয় ভাইয়ের রক্তে।
রক্তের ঋণে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ কবিতা লিখলেন। কবিতাটি মোট ৩০ লাইনের। কিন্তু এখান থেকে বেশ কয়েকটি লাইন অমর একুশের কালজয়ী গান হয়ে গেছে। এই গানটি আজ কোটি কোটি বাঙালী প্রাণের আবেগে দিনভর গাইবেন- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ এই গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চেতনায় আজও অনুপ্রাণিত বাঙালী জাতি। এই কালজয়ী গানের বাণী দেশের মানুষের মনে প্রোথিত হয়েছে সেই থেকে। গানটি পাকি শত্রুদের বিপক্ষে ঘৃণা ক্রোধ আর দ্রোহের আগুন এখনও জ্বালিয়ে তুলছে। পাকিস্তানের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের বিচারের দাবিতে তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমে আসে। একুশের সেই চেতনাই শিক্ষা দিয়েছে কোটি কোটি বাঙালীর মেধা ও মননে।
জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্বীপগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে।
একুশের চেতনার ফসল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে শহীদ মিনার গড়ে উঠে। প্রতিটি শহীদ মিনার যেন ভাষা শহীদদের অগ্নিশিখা। মাতৃভাষাকে কেবল অসৎ অভিসন্ধির হাত থেকে রক্ষা করেই এ দেশের মানুষ ক্ষান্ত হয়নি, তার জাতিসত্তার পরিচয়কে সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং শিল্পকর্ম, সঙ্গীত ও নৃত্যে আরও সমৃদ্ধতর করে বাঙালী মননশীলতাকে গতিময় করে তোলে।

শেয়ার