দেশ ধ্বংসের চেষ্টা সহ্য করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

PM1
সমাজের কথা ডেস্ক॥ হরতাল-অবরোধ ও নাশকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার ‘অপচেষ্টা’ হচ্ছে মন্তব্য করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দেশটাকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন এই দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়ার যে অপচেষ্টা সেটা কখনোই সহ্য করা যায় না।”
‘দুর্বৃত্তায়নের’ হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সবার সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অবরোধ আহ্বানকারী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “কারো রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে, নিজের ব্যর্থতার কারণে, দায় চাপবে বাংলাদেশের মানুষের ওপর; আর তাদের এভাবে মরতে হবে- এটা কখনো মেনে নেয়া যায় না।
“এই ধরনের দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে দেশকে যেন মুক্ত করতে পারি; তাতে সকলের সহযোগিতা আমার কাম্য।”
ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক ও সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষার মাসে একুশের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বারবার আঘাত এসেছে, তারপরেও বাঙালি জাতি কখনো পরাভব মানেনি। বাঙালি এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।”
মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে গত ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবরোধ করছে বিএনপি-জামায়াত জোট। অবরোধের সঙ্গে কর্মদিবসগুলোতে হরতালও পালন করছে তারা।
২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালে গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগে দগ্ধ হয়ে সারাদেশে অর্ধ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ।

এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি সময় এ অনুষ্ঠানটা করছি, যখন আমরা আমাদের আত্মমর্যাদা, ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি; ঠিক তার পাশাপাশি আমরা একটা বিভৎস রুপ দেখতে পাচ্ছি সারা বাংলাদেশজুড়ে।
“বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে; ঠিক সেই সময় এই আঘাত বাঙালি জাতির ওপর কেন?,” প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ব্যর্থতা থাকত আমাদের, হয়তো সেটা অজুহাত হতে পারত।”
হরতাল-অবরোধ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

এ বছর ১৫ জনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক পাওয়া ব্যক্তি ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রত্যেককে সোনার পদক, এক লাখ টাকার চেক ও সন্মাননা প্রদান করেন।

এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন মরহুম পিয়ারু সরদার (ভাষা আন্দোলন), অধ্যাপক মজিবর রহমান দেবদাস (মুক্তিযুদ্ধ), অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা (ভাষা ও সাহিত্য), মুহম্মদ নূরুল হুদা (ভাষা ও সাহিত্য), মরহুম আব্দুর রহমান বয়াতি (শিল্পকলা), এসএ আবুল হায়াত (শিল্পকলা), এটিএম শামসুজ্জামান (শিল্পকলা), অধ্যাপক ডা. এমএ মান্নান (শিক্ষা), সনৎ কুমার সাহা (শিক্ষা), আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া (গবেষণা), কামাল লোহানী (সাংবাদিকতা), ফরিদুর রেজা সাগর (গণমাধ্যম), ঝর্ণা ধারা চৌধুরী (সমাজসেবা), শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের (সমাজসেবা) ও অধ্যাপক অরুপ রতন চৌধুরী (সমাজসেবা)।

শেয়ার