ঢাকায় পৌঁছেছেন মমতা

Mamata
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার আসা হলেও এই সফর ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যার জট খোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় মমতাকে বহনকারী বিমানটি হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামে। তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
বিমানবন্দর থেকে মমতা সরাসরি যান সোনারগাঁও হোটেলে। সফরে এই হোটেলেই থাকছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় প্রথম সফরে মমতার সঙ্গে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ, অভিনেত্রী মুনমুন সেন, অভিনেতা প্রসেনজিৎ, দেব, কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা ঘোষ। একদল ব্যবসায়ী-সাংবাদিকও এসেছেন তার সঙ্গে।
সফরে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মমতা। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ একটি অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন।
বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ার জন্য মমতা কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে আলোচিত চরিত্র।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করলেও পশ্চিমবঙ্গের মুথ্যমন্ত্রী মমতার আপত্তিতেই নয়া দিল্লি চার বছর আগে আটকে গিয়েছিল তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সফরে আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নেন তিস্তা চুক্তির বিরোধী মমতা। পরে আর ওই চুক্তি হয়নি।

তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের পাশাপাশি স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরেরও বিরোধিতা ছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর, যা এখন ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন ভারতের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় তিস্তা এবং সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
দুই দেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে সই হওয়া সীমান্ত চুক্তি এবং এর আওতায় ২০১১ সালের প্রটোকল বাস্তবায়নে ভারতীয় পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনী বিল আনার চেষ্টায় বাদ সাধেন মমতা।

তবে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠলে মমতারও সুর নরম হতে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে নিজের অনাপত্তির কথাও জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

শেয়ার