শেখ হাসিনায় আস্থা, ‘উদ্যোগের প্রত্যাশা’ জাতিসংঘের

file325858
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন।
প্রায় দেড় মাস অবরোধে সহিংসতায় প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উত্তরণ প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে ওই চিঠির বিস্তারিত নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের আগে যেন সহিংসতা না ঘটে সে ব্যাপারে তিনি (বান কি-মুন) আশা প্রকাশ করেছেন।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অতীতে যেমন হয়েছে সামনের দিনেও সে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা করেছেন তিনি (জাতিসংঘ মহাসচিব)।”
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এ বছরই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ শেষে নতুন উন্নয়ন এজেন্ডা গ্রহণের কথা থাকায় ২০১৫ সালকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মহাসচিব চিঠিতে বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংকট সমাধানে প্রয়োজন বোধ করলে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব (শান্তিরক্ষা) অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তারানকো ঢাকা আসছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তাকে (তারানকো) ঢাকা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা জাতিসংঘের নেই।
“বাংলাদেশ চাইলে অদূর ভবিষ্যতে তিনি আসতে পারেন।”
জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠিকে আন্দোলনরত বিএনপি জোটের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে চাপ মনে করছেন কি না-জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, “এটা চাপ নয়। আমাদের কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের থেকেও কোনো চাপ নেই।”
সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, “না, খুনির সঙ্গে সংলাপ করতে চাই না।”
যুদ্ধাপরাধের বিচার ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ২০১২-১৩ সালে বাংলাদেশে সহিংস আন্দোলন এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা শুধু খেয়াল রাখব-আন্তর্জাতিক মানদন্ডে বাংলাদেশের কর্মকান্ড যেন সমালোচনায় না পড়ে।”
জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠিটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাঠানো হলেও গত পরশু তা সরকারের হাতে আসার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা কিছুদিন থেকে শুনছিলাম। কিন্তু বিস্ময়করভাবে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দুই সপ্তাহ পর সেটি পৌঁছেছে।”
এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি একেএ মোমেনকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার