মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে প্রতারণা ॥ মনিরামপুরে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে প্রতারণা করা মামলায় যশোরের মনিরামপুরে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মণিরামপুর থানার এসআই শাহজাহান আহম্মেদ তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, একই উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত আজিজ গাজীর তিন ছেলে মিন্টু, নাহিদ ও তৌহিদুল গাজী, মৃত মান্দার মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম মোড়ল, সরশকাঠি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আলী হাসান ও মিন্টু গাজীর স্ত্রী খোদেজা বেগম।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে আসামিরা এনায়েতপুর গ্রামের পিপলুসহ ১০জনকে বেশি বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তাব দেয় আসামি মিন্টু গাজী। তিনি বলেছিলেন তার ভাই তৌহিদুল গাজী নৌবাহিনীতে চাকরি করেন। সেই সুবাধে তাদের মালয়েশিয়া পাঠাবেন এবং বেশি বেতনে চাকুরি দেবেন। এ প্রস্তাবেব ভিত্তিতে জনপ্রতি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে যাওয়ার আগে খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা জমা দিতে বলে। গত বছরের ২ জুন ভুক্তভোগী পিপলু, রহমত আলী, আক্তার আলী, মশিয়ার সরর্দার, আবু কালাম, আসাদুজ্জামান, রুবেল, সেলিম ও রবিউলের কাছ থেকে মালয়েশিয়ার যাওয়ার খরচ হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে নেয় আসামিরা। পরদিন আসামিরা ভুক্তভোগীদের মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দ্যেশ্যে কক্সবাজার নিয়ে যায়। এরপর টেকনাফে নিয়ে তাদের বিদেশি দালালের কাছে বিক্রি করে আসামিরা পালিয়ে চলে আসে। দালালরা তাদের ট্রলারে উঠিয়ে সাতদিন নদীর মধ্যে আটকে রাখে। এ নিয়ে দালালদের সাথে পিপলু, রুবেল, সেলিম, রবিউলদের গোলযোগ হয়। এক পর্যায়ে দালালরা ভুক্তভোগীদের মারপিট ও গুলি করে। গুলিতে রুবেল, সেলিম নিহত ও রবিউল গুরুতর আহত হয়। বিষয়টি তারা নৌবাহিনীকে জানায়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে নৌবহিনী। পিপলু বাড়ি ফিরে ১৪ জুলাই ছয়জনকে আসামি করে পাচারের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে ৬ আগস্ট মণিরামপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামি মিন্টু, রফিকুল, হাসান, তৌহিদুল ও খোদেজা বেগমকে চার্জশিটে পলাতক দেখানো হয়েছে। তবে রুবেল ও সেলিম নিহতের ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় মামলা হওয়ায় এঘটনায় যশোরে কোন মামলা করা হয়নি।

শেয়ার