জাতীয় শহীদ মিনারের আদলে স্থাপত্য শৈলী ॥ ৬৩ বছর পর যশোর জিলা স্কুলে শহীদ মিনার উদ্বোধন

shohid minar
সালমান হাসান॥
মহান ভাষা আন্দোলনের ৬৩ বছর পর বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ যশোর জিলা স্কুলে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। জাতীয় শহীদ মিনারের স্থাপত্য শৈলীর আদলে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। আসছে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুলে স্থাপিত শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাবেন।
জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রতিষ্ঠিত হয় যশোর জিলা স্কুল। ১৮৩৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আর ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্মাণ করা হলো শহীদ মিনার। দেরিতে হলেও প্রাচীন ও ঐতিহ্যমন্ডিত এ বিদ্যাপীঠে শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় ভাষাপ্রেমীদের যে ক্ষোভ ছিল সেটার পরিসমাপ্তি ঘটলো।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের শিক্ষাজীবন কেটেছে প্রাচীন এ জিলা স্কুলে। পরে সরকারিভাবে নির্মিত হল একটি শহীদ মিনার। যার নির্মাণ কাজ তদারকি করে যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। গতকাল নির্মাণ কাজের শেষ দিন। বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, ৪ থেকে ৫ জন মানুষ বেদিতে রঙ করায় ব্যস্ত। আর একজন ব্যক্তি নিবিষ্ট মনে ওয়েলন্ডিং ম্যাশিনে ঝালায় করছে। কাছে যেয়ে দেখা গেল বেদির পিছনে লাল টকটকে একটি সূর্যের প্রতিকৃতি টাঙানো হবে সেটি ঝালাইয়ের কাজ করছেন তিনি। আর যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুজ্জামান কাজের তদারকি করছেন।
শহীদ মিনার ঘুরে দেখা যায়, জেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠে প্রথম নির্মিত এই শহীদ মিনারের স্থাপত্য শৈলী ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে করা হয়েছে। ব্রিকস এবং সিরামিকস্ দেওয়া হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুরূপ। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঈনদ্দীন জানান, এটি নির্মাণে ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে।
যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম জানান, একুশে ফেব্রুয়ারির দিন সকালে জিলা স্কুলের ছাত্ররা শহীদদের স্মরণে এখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবে। তবে একুশের রাতে এটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না।

শেয়ার