যশোরে আটক বাপ্পির আদালতে স্বীকারোক্তি ॥ চাঁদাবাজদের টাকা দিতে গৃহবধূ ডলিকে খুন করে স্বর্ণালংকার লুট করা হয়

mamlamaml
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে আঞ্জুমান আরা ডলিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইউসুফ আল জামিউজ্জামান বাপ্পি। সোমবার যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু ইব্রাহিমের আদালতে হত্যা কথা স্বীকার করে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, চাঁদার দাবিতে তার (বাপ্পি) ছেলেকে অপহরণ করে স্থানীয় চাঁদাবাজরা হত্যায় করতে চেয়েছিলো। তাই চাঁদাবাজদের টাকা দিতে তিনি ১২ জানুয়ারি ডলির স্বর্ণালংকার লুটকালে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
আটক বাপ্পি শহরতলীর বিরামপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামানের ছেলে। আর নিহত ডলি যশোর শহরতলীর সবুল্লার মোড়ের বাসিন্দা ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের স্ত্রী। স্বামী জেলা ফেনীতে চাকরি করায় এবং দু’সন্তান গ্রিস ও লন্ডনে থাকায় ওই বাড়িতে তিনি একা বসবাস করতেন। মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়া বাপ্পি। ডলিকে তিনি আন্টি বলে ডাকতেন। পুলিশ রোববার বিকেলে তাকে আটক করে।
গতকাল বাপ্পি স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, গত ১০ জানুয়ারি বিকেলে গাবতলা এলাকার শিমুল, উপশহর বি-ব্লকের টিপু ও বুলুসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার (বাপ্পি) কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে তারা (বাপ্পি) ছেলে সাকিব হাসানকে অপহরণের পর হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। সন্তানকে বাঁচাতে টাকার প্রয়োজনে ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যার পরে আঞ্জুমান আরা ডলির বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে গল্প করে এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডলিকে গলা টিপে হত্যা করে বাপ্পি। এসময় গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও কানে থাকা একটি চাপা খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় গেটের বাইরে থেকে তালা আটকিয়ে দেয়। পরদিন ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শাহিনা আক্তার বড় বোন ডলির খোঁজে তাদের বাড়িতে আসেন। এসময় মুঠোফোনে (মোবাইল) কল দিলে ঘরের ভিতর রিং বাজতে শুনে বাড়ির সামনে থাকা এক কাঠ মিস্ত্রিকে ডেকে নিয়ে তালা ভাঙ্গা হয়। পরে ডলির লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন শাহিনা। এসময় বাপ্পি ঘটনাস্থলে ছিলেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ডলি হত্যার ঘটনায় তার স্বামী আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে সেসময়ই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হিমায়েত হোসেন জানান, মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সনাক্ত করা হয় বাপ্পিকে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের গাড়িখানা রোডের ওয়ালটন শো-রুমের সামনে থেকে পুলিশ আটক করে বাপ্পিকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা করার কথা এবং স্বর্ণালংকার নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার দেখানো মতে সোমবার দুপুরে ডলির স্বর্ণালংকার শহরের সিলভার হাউজের শ্যামল ও রতন জুয়েলার্সের মালিক অতুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওই দু’টি জুয়েলারির দোকান থেকে দু’টি কানের দুল একটি আংটি ও দু’টি কানের চাপা উদ্ধার করা হয়েছে।

শেয়ার